সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামানের ১৮ কোটি টাকার দুটি ফ্ল্যাট দুদকের নিয়ন্ত্রণে

রাজধানীর গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানধীন ১৮ কোটি টাকা মূল্যের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদালতের নির্দেশনায় রোববার সকালে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির কাজ করেছে দুদকের একটি যৌথ টাস্কফোর্স।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এবং গুলশান রেভিনিউ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিলয় রহমানের উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান শুরু হয়।
ফ্ল্যাট দুটি গুলশান-২ এর ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত। এর মধ্যে ‘এ-৭’ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩,৭৪৭ বর্গফুট এবং ‘বি-৭’ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩,৮৩২ বর্গফুট।
দুদকের জনসংযোগ বিভাগ ও তদন্তকারীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, প্রথম দিনের তল্লাশিতে ফ্ল্যাট দুটি থেকে ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, ৪টি বিখ্যাত রোলেক্স ব্র্যান্ডের ঘড়িসহ মোট ৮টি ঘড়ির বাক্স, ৩ সেট মুক্তার গহনা, ৪টি দামী ঝাড়বাতি এবং মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুদকের ধারণা, অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই ফ্ল্যাট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে ফ্ল্যাটগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ‘রিসিভার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ফ্ল্যাট দুটি তালাবদ্ধ থাকায় রিসিভার সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে আজ তালা ভেঙে এই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, সাবেক এই ভূমিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশে ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদালতের আদেশে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৮-৯টি দেশে থাকা ৩৩০টিরও বেশি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যেই তার নামে নিবন্ধিত ৫১৮টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের আদেশ রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৭১.৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুদকের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচার এবং দেশে ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।
বর্তমানে পলাতক থাকা সাবেক এই মন্ত্রীর গুলশানের ফ্ল্যাট দুটি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের হেফাজতে থাকবে এবং মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

















