বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা একাদশে দুই পরিবর্তনের আভাস

টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবল বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার হাতছানি আর্জেন্টিনার সামনে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ১টায় ২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে অপ্রতিরোধ্য স্পেন।
ফাইনালের মহারণের আগে বরাবরের মতোই নিজের রণকৌশল ও সম্ভাব্য একাদশ নিয়ে চরম গোপনীয়তা বজায় রাখছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের শক্তির ওপর ভিত্তি করে দল সাজানো এই মাস্টারমাইন্ড সেমিফাইনালের একাদশ থেকে ফাইনালে দুটি বড় পরিবর্তন আনতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা একাদশেই মূলত এই দুটি কৌশলগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন স্কালোনি। স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগ ও উইঙ্গারদের গতি রুখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
সেমিফাইনালে লেফট-ব্যাক পজিশনে খেলা নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর জায়গায় ফাইনালে শুরু থেকেই দেখা যেতে পারে অভিজ্ঞ মার্কোস আকুনিয়াকে। স্পেনের রাইট-উইংয়ের গতিশীল আক্রমণ সামলাতে আকুনিয়ার রক্ষণাত্মক শক্তি ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং দক্ষতাকে বেছে নিতে পারেন কোচ।
মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে এনজো ফার্নান্দেজ অথবা অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের যেকোনো একজনের পরিবর্তে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে একাদশে ফেরানোর জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। স্পেনের তরুণ ও চতুর মিডফিল্ডকে নিষ্ক্রিয় করতে পারেদেসের ট্যাকলিং ও শারীরিক ফুটবলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন স্কালোনি। দলে কৌশলগত পরিবর্তন আসলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ও গোলপোস্টের নিচে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
সেমিফাইনালের মতো ফাইনালেও আক্রমণে হুলিয়ান আলভারেজ এবং চলতি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লওতারো মার্তিনেসের ওপরই আস্থা রাখছেন কোচ। ক্যারিয়ারের সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামা লিওনেল মেসি থাকছেন ফ্রি-রোলে, যিনি আক্রমণভাগ ও মাঝমাঠের সংযোগসূত্র হিসেবে কাজ করবেন।
গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী এমিলিয়ানো মার্তিনেস। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো এবং নিকোলাস ওতামেন্দির ওপরই থাকছে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ডদের গোলবঞ্চিত করার মূল দায়িত্ব।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই স্কালোনি তার ৫-৩-২ বা ৪-৩-৩ ফরমেশনের চমক শেষ মুহূর্তে দেখিয়েছেন। স্পেনের মতো টিকিটাকা ও হাই-প্রেসিং ফুটবলের বিপক্ষে স্কালোনির এই গোপন চাল কতটা সফল হয়, তা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী।

















