ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় পাঁচজন নিহত

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বেজে উঠেছে যুদ্ধের দামামা। কয়েক সপ্তাহের শান্ত পরিস্থিতির পর বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান। মঙ্গলবার রাতে দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন আরও ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহতের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর প্রতিশোধের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে এই সংঘাতের সূত্রপাত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের আকাশ প্রতিরক্ষা, রাডার স্টেশন, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপন ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ সক্ষমতা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে তারা এই বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি এই হামলার পাল্টা জবাব দেয় তবে তাদের ওপর আরও ভয়াবহ ও বিধ্বংসী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, দেশটির উপকূলীয় এলাকা সিরিকের কুহেস্তাক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী অতর্কিত বোমাবর্ষণ করেছে।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় ৪ বছরের একটি শিশুসহ ৫ জন নিহত এবং নারী ও শিশুসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইরান এই ঘটনাকে ‘বর্বর অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে ওয়াশিংটন বেসামরিক নাগরিক ও বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার এই অভিযোগ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মার্কিন হামলার পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন মিত্র ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়। বাহরাইনের সামরিক বাহিনী ইরানের একটি আকাশপথের আক্রমণ প্রতিহত করার দাবি করেছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের জলসীমায় একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে।
দুই মাস আগে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই মূলত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই নতুন সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বছরের শুরুর চেয়ে ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে।
















