১২০ মিনিটের বীরত্ব মাটি হলো এক পেনাল্টিতে: গ্যাব্রিয়েল ট্র্যাজেডিতে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন

ইউরোপ সেরার মঞ্চে প্রথম ট্রফি ছোঁয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল গানার্সদের সামনে। পিএসজির বিপক্ষে ফাইনালের শুরু থেকে রক্ষণভাগে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েশ। পিএসজির মতো বিধ্বংসী আক্রমণভাগ—যারা গত বছরের ফাইনালে ইন্টার মিলানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং চলতি আসরের সেমিফাইনালেও বায়ার্ন মিউনিখের জালে ৬ গোল জড়িয়েছিল, সেই পিএসজিকে পুরো ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে একটি গোলও করতে দেননি গ্যাব্রিয়েল।
ম্যাচের পরিসংখ্যানই বলছে পুরো ১২০ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল কতটা অপ্রতিরোধ্য ছিলেন। তিনি একাই করেছেন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্স। মাটিতে কিংবা বাতাসে—পিএসজির ফরোয়ার্ডদের সঙ্গে একটি দ্বৈরথেও হারেননি এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার। পুরো ম্যাচে কোনো প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় তাঁকে একবারের জন্যও কাটিয়ে (ড্রিবল) যেতে পারেননি। এমন অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্সের পর ট্রফিটা আর্সেনালের হাতে উঠলে নিশ্চিতভাবেই ম্যাচসেরার পুরস্কারটি তাঁর হাতেই উঠত।
কিন্তু সব হিসাব ওলটপালট হয়ে যায় টাইব্রেকারে। পেনাল্টি শুটআউটে আর্সেনাল যখন ৪-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে, তখন পঞ্চম শটটি নিতে আসেন গ্যাব্রিয়েল। সমতা ফিরিয়ে ম্যাচটিকে ‘সাডেন ডেথ’-এ নিয়ে যাওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। কিন্তু চরম স্নায়ুচাপে শটটি বারের অনেক ওপর দিয়ে মারেন তিনি। আর তাতেই আর্সেনালকে বিষাদের সাগরে ডুবিয়ে ইউরোপ সেরার উল্লাসে মাতে পিএসজি।
পেনাল্টি মিসের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্যাব্রিয়েল। বুকভাঙ্গা সেই কষ্টের মুহূর্তে ক্লাবের সীমানা ভুলে তাঁর দিকে ছুটে আসেন পিএসজির অধিনায়ক তথা জাতীয় দল ব্রাজিলের সতীর্থ মারকিনিয়োস। মাঠে চরম প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও ম্যাচ শেষে স্বদেশী ভাইকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেওয়ার সেই দৃশ্যটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
টাইব্রেকারের ভাগ্য টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিলেও, ফাইনালে গ্যাব্রিয়েলের এমন অতিমানবীয় পারফর্ম্যান্স নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি দেবে ব্রাজিল জাতীয় দলকে। সামনেই বিশ্বকাপ, আর সেখানে মারকিনিয়োস-গ্যাব্রিয়েল জুটি সেলেসাওদের রক্ষণভাগকে কতটা শক্তিশালী করবে, এই ফাইনাল যেন তারই এক বড় মহড়া দিয়ে রাখল।









