রাবি ছাত্রী পরিচয়ে পর্নোগ্রাফির অভিযোগে দম্পতি গ্রেফতার

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভুয়া পরিচয় দিয়ে অনলাইনে পর্নোগ্রাফি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক তরুণী ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত তরুণী নূরে জান্নাত নিতু (২৩) এবং তাঁর স্বামী শেখ মারুফ আহমেদ (২৩) আসলে রাজশাহীর উদয়ন কলেজ অব বায়োসায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তাঁরা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে রয়েছেন।
থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নিতু নিজেকে রাবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী দাবি করে আসলেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নামে তাদের কোনো শিক্ষার্থী নেই। মূলত ‘সোভিয়া কাম সার্ভিস’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে মিনিট প্রতি টাকার বিনিময়ে ভিডিও কলে পর্নোগ্রাফি চালিয়ে আসছিলেন তিনি, যেখানে তাঁর স্বামী মারুফ সরাসরি সহায়তা করতেন। এছাড়া রাজশাহী পবা অঞ্চলের এক ভুক্তভোগীসহ বিভিন্ন পুরুষের সাথে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইল করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে।
শুধু পর্নোগ্রাফিই নয়, বড় অঙ্কের আর্থিক আত্মসাতের মামলাও রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। ‘রাজশাহী মেট্রো’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে বিনিয়োগের নামে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে নগরীর মতিহার থানায় ভুক্তভোগী কর্তৃক মামলা দায়েরের পর গত ২৮ এপ্রিল পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ওই সময় তাঁদের হেফাজত থেকে একটি ল্যাপটপ এবং লেন্সসহ অত্যাধুনিক ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও অনুসন্ধানে এই দম্পতির অনলাইন পর্নোগ্রাফি ও ভুয়া পরিচয়ে ব্ল্যাকমেইল চক্রের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। প্রথম স্বামীর সাথে অনৈতিক কাজের জেরে বিবাহবিচ্ছেদের পর শেখ মারুফকে দ্বিতীয় বিয়ে করে এই অপরাধমূলক সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন নিতু।
রাজশাহী মেট্রোপ্রলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজীউর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামিরা বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় জেলহাজতে আছেন। এই চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নতুন কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















