সীতাকুণ্ডে জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আট শ্রমিকের মৃত্যু

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় স্ক্র্যাপ জাহাজের ট্যাংক থেকে ছড়িয়ে পড়া বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে নিহত শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে ৮ জন হয়েছে। শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি কারখানায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
সকালে ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে হাউজ কিপিংয়ের কাজ করছিলেন একদল শ্রমিক। কাজ করার সময় হঠাৎ জাহাজের একটি ট্যাংক বা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে তীব্র বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে। বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতায় শ্রমিকরা মুহূর্তের মধ্যে অবশ ও অচেতন হয়ে জাহাজের ভেতরেই আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে কুমিরা ও সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কারখানা থেকে প্রাথমিকভাবে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। বাকিদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান দুপুরে জানান, এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন। একজন চিকিৎসাধীন আছেন।
ডা. ইশতিয়াক বলেন, ‘তাদের শরীরে বিস্ফোরণজনিত আঘাত এবং গ্যাস ইনহেলেশন জনিত প্রভাব পেয়েছি। জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণ হয়েছে বলে শুনেছি।’
ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘আজ বন্ধের দিন। আমাদের শিপ কাটিং ছিল না। গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। গ্যাস লিকেজ দেখতে পেয়ে শিফট ইনচার্জসহ তিনজন অফিসার এগিয়ে গেলে তারা অসুস্থ হয়ে যান। তাদের দেখে আরো চারজন এগিয়ে গেলে তারাও অজ্ঞান হয়ে পড়েন।’
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, ‘জাহাজে বিষাক্ত গ্যাস নিগর্মনে ১০ জন শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।
















