বিপৎসীমার ওপর সাতটি নদীর পানি, পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় লাখো মানুষ

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতটি নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার অন্তত আটটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর ফলে হাওরাঞ্চলের নিচু এলাকার লাখো মানুষ পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নলজুর নদীর পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নেত্রকোনার জারিয়াঞ্জাইলে ধনু-বাউলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার এবং সদর ও আটপাড়ায় মগরা নদীর পানি যথাক্রমে ৭৯ ও ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী ও জারিয়াঞ্জাইলে ভুগাই-কংশ নদীর পানিও বিপৎসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে।
হবিগঞ্জেও নদ-নদীর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আজমিরীগঞ্জে কালনি নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার এবং সুতাং রেলসেতু এলাকায় সুতাং নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার জারিয়াঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার এবং হবিগঞ্জ সদরে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে ভারতের মেঘালয় ও আসামেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বিশেষ করে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা পানি বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলের নদ-নদীতে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি ঘণ্টায় শূন্য থেকে এক সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে বাড়লেও নিচু এলাকাগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

















