আন্দোলনের মুখে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ

দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলোর টানা চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরসহ বিভিন্ন রাজ্যে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই আন্দোলনে শিক্ষার্থী, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা একাত্মতা প্রকাশ করায় কেন্দ্রীয় সরকার মারাত্মক চাপে পড়ে। আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ, যা মেনে নিতে শেষ পর্যন্ত বাধ্য হলো মোদী সরকার।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, প্রথম দিন থেকেই তিনি এ ঘটনার নৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং পরীক্ষা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষার পরিবেশ যাতে ব্যাহত না হয় সেই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন।
পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই আন্দোলনকারীরা একে সাধারণ শিক্ষার্থী ও গণতন্ত্রের বড় জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অনশনরত শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থন এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতিতে মোড় নেয়। যন্তর-মন্তরে চলা এই টানা বিক্ষোভের জের ধরে নিরাপত্তার স্বার্থে দিল্লিতে একাধিক মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত বন্ধ রাখতে হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আশির দশকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা ধর্মেন্দ্র প্রধান ২০২১ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিজেপি যুব মোর্চার সভাপতি, দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পেট্রোলিয়াম প্রতিমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন।
এমনকি ২০০০ সালে প্রথম বিধায়ক ও ২০০৪ সালে দেওগড় থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া ধর্মেন্দ্র প্রধান ২০২৪ সালের নির্বাচনে ওড়িশার সম্বলপুর লোকসভা আসন থেকেও বিজয়ী হন। একসময় ওড়িশায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই প্রবীণ নেতাই অবশেষে নিজ মন্ত্রণালয়ে প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারি ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে নিজের পদ ত্যাগ করতে বাধ্য হলেন।
















