সপরিবারে বঙ্গভবন ছাড়লেন পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগের দুইদিনের মাথায় বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার বেলা ২টা ২৫ মিনিটে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এসময় রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি ওই বহরে দেখা গেছে। এর আগে দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।
মো. সাহাবুদ্দিনের গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের বাসা পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। পরিষ্কার করা হয়েছে আসবাবপত্র। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িটিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগে বঙ্গভবন ছাড়লেন তিনি।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন তিনি। এরপর জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং তা গ্রহণ করেছেন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি নব্বই পরবর্তী বাংলাদেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি, যাকে মেয়াদ পূর্তির আগেই দায়িত্ব ছাড়তে হলো।
বঙ্গভবনে ৩৯ মাসের দায়িত্বে সাহাবুদ্দিন দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছেন। তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়িয়েছেন। নজিরবিহীন এক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে একজন সরকারপ্রধানের দেশান্তরী হওয়ার সাক্ষী হয়েছেন।
গত সাড়ে তিন দশকে আর কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকে এতটা ঘটনাবহুল আর বন্ধুর পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করতে হয়নি।

















