রিজার্ভ ছাড়াল ৩০ বিলিয়ন ডলার, ৪ দিনে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৪৬ শতাংশ

প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রমের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। একইসঙ্গে চলতি মাসের প্রথম চার দিনেই রেমিট্যান্সে ৪৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মঙ্গলবার তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৫ কোটি (৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। এর ফলে মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই মোট ডলার কেনা দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ডলারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব মিলিয়ে ৫ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার বাজার থেকে ক্রয় করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলারের অস্থিরতা কমাতে এবং টাকার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, ৫ মে দেশের গ্রস বা মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে এর পরিমাণ ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। উভয় সূচকেই রিজার্ভের বর্তমান অবস্থানকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রিজার্ভের এই উন্নতির পেছনে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে রেমিট্যান্স। মে মাসের প্রথম চার দিনেই (১-৪ মে) দেশে ৪৫৬ মিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। গত বছর এই সময়ে এসেছিল ৩১২ মিলিয়ন ডলার। শুধু ৪ মে একদিনেই প্রবাসীরা ১৪১ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন।
সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৪ মে পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৭৮৯ মিলিয়ন ডলার। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। হুন্ডি প্রতিরোধে নজরদারি এবং বৈধ পথে প্রণোদনার ফলে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় নীতিনির্ধারকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

















