রাজশাহীতে তেল নেই ৪৬ পাম্পের ৩৬টিতেই, ঠেলতে হলো পুলিশের গাড়ি

রাজশাহী জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তেলের অভাবে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িও রাস্তায় অচল হয়ে পড়ছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে রাজশাহী মহানগরীর রাস্তায় পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানকে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
জেলা প্রশাসন ও পেট্রোল পাম্প মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪৬টি নিবন্ধিত পেট্রোল পাম্প রয়েছে। তবে আজ সোমবার সকাল থেকে মাত্র ১০টি পাম্পে সীমিত পরিসরে তেল সরবরাহ করতে দেখা গেছে। বাকি ৩৬টি পাম্পেই ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সকাল থেকেই সচল পাম্পগুলোতে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের জন্য কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। অধিকাংশ গ্রাহক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
এদিকে, সরবরাহ সংকটের মাঝেও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। নগরীর গুল গফুর পেট্রোলিয়াম পাম্পে সোমবার সকালে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, ভিআইপি লাইনে শুধু জরুরি সেবার গাড়ি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেল দেওয়ার কথা থাকলেও সেখানে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকেও তেল নিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সাধারণ লাইনে অপেক্ষমাণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পাম্প কর্মচারীদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ তিন ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, আর চোখের সামনে দিয়ে নিয়ম ভেঙে তেল দেওয়া হচ্ছে। পাম্প মালিক আর প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার কারণেই এই বিশৃঙ্খলা।”
জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে পুলিশের গাড়ির ক্ষেত্রে। সরবরাহ না থাকায় অনেক টহল গাড়ি সময়মতো জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেনি। সোমবার সকালে নগরীর ব্যস্ত সড়কে তেলের অভাবে পুলিশের একটি গাড়ি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে দায়িত্বরত সদস্যরা নিজেরাই সেটি ঠেলে নিয়ে যেতে বাধ্য হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই দৃশ্যই প্রমাণ করে রাজশাহীর জ্বালানি সংকট বর্তমানে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এ বিষয়ে পেট্রোল পাম্প মালিকদের দাবি, তারা তেল উত্তোলনকারী কোম্পানি বা ডিপো থেকে চাহিদানুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। তারা বলছেন, “আমাদের হাতে তেল নেই, তাই আমরা গ্রাহকদের দিতে পারছি না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে আমাদের কিছুই করার নেই।” দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে জেলার পরিবহন ও জরুরি সেবা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

















