অভিনেতা তপনের মৃত্যুতে শোকাতুর শাহেদ: তুললেন সম্মানের প্রশ্ন

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ, কৌতুক অভিনেতা তারিকুজ্জামান তপন। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন অভিনেতা শাহেদ শরীফ খান। সেখানে তিনি শোক প্রকাশের পাশাপাশি এই শিল্পমাধ্যমে শিল্পীদের প্রকৃত সম্মান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তুলেছেন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
শাহেদ শরীফ খান তার দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জানান, সহকর্মীর মৃত্যুসংবাদ তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি তার নিজের মঞ্চনাটকের শুরুর দিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অভিনয়ের প্রতি অদম্য ভালোবাসা থেকেই এই অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ পথচলায় নানা বাধা, দলাদলি ও অব্যবস্থাপনার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
তার অভিযোগ, পূর্বসূরি অনেক শিল্পী নিজেদের অবস্থান শক্ত করলেও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তেমন কোনো জায়গা তৈরি করেননি। শাহেদ আক্ষেপ করে বলেন, তারা নিজেদের চেয়ারের কথা ভেবেছেন, কিন্তু অন্যদের জন্য জায়গা করে দেননি। ন্যায্য পারিশ্রমিক ও সম্মান আদায়ে শিল্পীদের একসঙ্গে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি আজও গড়ে ওঠেনি।
শাহেদ মনে করেন, নাটকের মান এবং শিল্পের মূল্য কমে যাওয়া শিল্পীদের জন্য হতাশাজনক। তিনি আরও বলেন, “একজন সহকর্মীর মৃত্যু শুধু একজন মানুষকে হারানো নয়, এটি আমাদের পুরো শিল্পজগতের নীরব ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।” তবে তপন তার সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে সহকর্মীদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত ডিসেম্বর মাসে তারিকুজ্জামান তপনের খাদ্যনালিতে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, রোগটি ধরা পড়ার সময়ই তা চতুর্থ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তিন দফা কেমোথেরাপি দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সব লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয় করেছেন তপন। বিশেষ করে কমেডি বা কৌতুক চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের দারুণভাবে বিনোদিত করত। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
চলচ্চিত্র: ‘আলতা বানু’, ‘ঠিকানা’ ও ‘যা ছিল অন্ধকারে’।
নাটক: ‘জোড়া শালিক’, ‘হাতছানি’, ‘অল্পে গল্পে’ ও ‘মৃত্তিকার যাত্রা’।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিল্পীদের সামাজিক নিরাপত্তা ও প্রাপ্য সম্মানের বিষয়টি।

















