কানাডা ভাঙার চক্রান্ত রুখে দেওয়ার ডাক প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির

কানাডা থেকে তেলসমৃদ্ধ ও প্রভাবশালী প্রদেশ আলবার্টার আলাদা হয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠেয় ঐতিহাসিক গণভোটের ঠিক আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। আগামী ১৯ অক্টোবর এই ঐতিহাসিক ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ঠিক আগে ক্যালগ্যারিতে ‘ফরএভার কানাডিয়ান’ ব্যানারে এক বিশাল সমাবেশে আবেগঘন ও কঠোর বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলবার্টার এই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকে ২০১৬ সালের যুক্তরাজ্যের ‘ব্রেক্সিট’ এর সঙ্গে তুলনা করে একে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সাথে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে ভোট দেওয়াকে একটি ‘বিপজ্জনক চাল’ বলে ভোটারদের সতর্ক করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, বিচ্ছিন্ন হওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত কানাডা এবং আলবার্টা উভয়ের জন্যই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট ও দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা ডেকে আনবে। ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ধাক্কার উদাহরণ দিয়ে তিনি আলবার্টাবাসীকে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার অনুরোধ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা এবং মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনের কিছু মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করে কার্নি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, ‘সীমান্তের বাইরে থেকে কিছু পক্ষ আমাদের ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে, যেন তারা আমাদের সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।’
তবে আলবার্টার মূল স্বাধীনতাপন্থি সংগঠন ‘আলবার্টা প্রসপারিটি প্রজেক্ট’ তাদের এই আন্দোলনে কোনো মার্কিন সংশ্লিষ্টতা বা উসকানির কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
আলবার্টায় বড় হওয়া প্রধানমন্ত্রী কার্নি স্বীকার করেন, ওটাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আলবার্টাবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনাবোধ ও ক্ষোভের যৌক্তিক কারণ রয়েছে। তবে প্রদেশের তেল শিল্পের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে তাঁর সরকার ইতিমধ্যে আলবার্টা থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল পর্যন্ত একটি নতুন তেল পাইপলাইন নির্মাণে দ্রুত ছাড়পত্র দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে কানাডার তেল রপ্তানি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে এই ইস্যুতে কানাডার সব মূল দল এক সারিতে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ের পয়লিয়েভ এবং খোদ আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও কানাডার জাতীয় ঐক্যের পক্ষে জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, আলবার্টার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ কানাডার সাথে থাকার পক্ষে এবং মাত্র এক-চতুর্থাংশ মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে জরিপে এগিয়ে থাকলেও কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে এই গণভোটকে কেন্দ্র করে রেকর্ডসংখ্যক আগাম ভোট পড়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণভোটে স্বাধীনতাপন্থিরা জয়ী হলেও আলবার্টা রাতারাতি কোনো স্বাধীন দেশ হয়ে যাবে না। কানাডার সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী, এই ভোটের ফলাফল মূলত ওটাওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে প্রদেশটির আইনি ও সাংবিধানিক উপায়ে আলাদা হওয়ার আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ তৈরি করবে। পুরো বিশ্বের নজর এখন আগামী সোমবারের এই ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটের দিকে।













