কানাডার পণ্যে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নিকটতম প্রতিবেশী কানাডার সঙ্গে তীব্র শুল্ক-যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। শুল্ক আরোপ, পাল্টা শুল্ক, এবং আইনি লড়াইয়ের পর এই বাণিজ্য যুদ্ধ এখন চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে।
কানাডা থেকে আমদানিকৃত প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ১৮ আগস্ট রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শুল্ক ৩ দিনের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে থাকায় তিনি এই স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও নিশ্চিত করেছেন যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মার্কিন মদের ওপর কিছু প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এই কঠোর শুল্কের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ করেছিল এবং মার্কিন মদ বর্জন করেছিল।
ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন এই নতুন চুক্তির অংশ হিসেবে জো বাইডেন কর্তৃক বাতিল হওয়া ঐতিহাসিক ‘কিপস্টোন এক্সএল অয়েল পাইপলাইন’ প্রকল্পটি আবারও পুনরুজ্জীবিত হতে পারে।
এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে ট্রাম্প কানাডার পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক চাপিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের জরুরি অবস্থার আওতায় দেওয়া কিছু শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করলে ট্রাম্প শুল্ক আইনের ভিন্ন ধারা ব্যবহার করে কানাডাকে চাপে রাখার নতুন কৌশল নেন।
আপাতত ৩ দিনের এই স্থগিতাদেশের ফলে দুই দেশের অর্থনীতিই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে, তবে চূড়ান্ত চুক্তি সই হওয়া না পর্যন্ত শুল্ক-যুদ্ধের এই উত্তেজনা শেষ হচ্ছে না।
















