শাহরুখ ও দীপিকার বিরুদ্ধে মামলার গুঞ্জন

নতুন গাড়ি কিনে একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের রাজস্থানের এক আইনজীবী। তবে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এই মামলায় বলিউড মেগাস্টার শাহরুখ খান এবং অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের নামও জড়িয়ে পড়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোর দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কীর্তি সিং নামের ওই আইনজীবী প্রায় ২৪ লাখ রুপি ব্যয় করে একটি ‘হুন্ডাই আলকাজার’ (Hyundai Alcazar) এসইউভি গাড়ি কিনেছিলেন। কিন্তু গাড়িটি ব্যবহারের শুরু থেকেই এর ইঞ্জিনে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। বিশেষ করে গাড়ির গতি বাড়ানোর সময় হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়া এবং অন্যান্য জটিল কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। ত্রুটিগুলো নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সন্তোষজনক সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, আইনজীবী কীর্তি সিং শুধু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নামেই মামলা করেননি, বরং ব্র্যান্ডটির শুভেচ্ছাদূত (ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর) হওয়ার কারণে বলিউড তারকা শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোনকেও এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে, ‘ভাবুন তো, একটা গাড়ি কিনে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনের তারকাদের বিরুদ্ধেই মামলা করতে হচ্ছে।’
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সেলিব্রিটিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে:
-
ভোক্তাদের আস্থা ও দায়বদ্ধতা: নেটিজেনদের একটি অংশের মতে, বড় তারকারা যখন কোনো পণ্যের প্রচার করেন, তখন সাধারণ ভোক্তারা তাদের ওপর ভরসা করেই পণ্যটি কেনেন। তাই পণ্যে গুরুতর ত্রুটি থাকলে বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া তারকাদেরও এর দায় নেওয়া উচিত।
-
কারিগরি ত্রুটির দায় কার?: অন্য অংশের মতে, কোনো তারকা ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেই পণ্যের ভেতরের কারিগরি ত্রুটির জন্য তাকে আইনগতভাবে দায়ী করা যায় না। এটি সম্পূর্ণ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা।
ভাইরাল হওয়া এই দাবির সত্যতা নিয়ে অনেক মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি নিয়ে এখন পর্যন্ত শাহরুখ খান, দীপিকা পাড়ুকোন কিংবা সংশ্লিষ্ট গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আদালত এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

















