৪০০ বছরের ‘জিনের বাদশা’ সেজে প্রতারণা, গ্রেফতার

অনলাইন অ্যাপসে বিনিয়োগ করে মোটা অংকের লাভের প্রলোভন এবং নিজেকে ৪০০ বছরের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিয়ে শতাধিক মানুষের প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল হামিদ (৩৩) নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার বনবাড়ীয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার মমতাজ বেগম নামে এক নারী সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় তিন মাস আগে আব্দুল হামিদ বাদীর কাছে গিয়ে ‘ইকো ভোল্ট’ নামের একটি সোলার প্যানেল প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে বিনিয়োগ করলে অধিক মুনাফা পাওয়া যাবে বলে প্রলোভন দেখান। তার কথায় আকৃষ্ট হয়ে বাদীর মাধ্যমে প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ওই অ্যাপসে মোট ১১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরে ‘সিইএফ’ নামের আরেকটি অ্যাপসের কথা বলে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। পরবর্তীতে অ্যাপস দুটি অকার্যকর হয়ে গেলে নতুন প্রলোভন দেখিয়ে আরও ৪ লাখ টাকাসহ সবমিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন হামিদ।
ঘটনার পর সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতুর নির্দেশনায় পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি ট্যাবলেট, একটি স্মার্টফোন এবং প্রতারণামূলক অ্যাপস সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারপত্র জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ স্বীকার করেছেন, তিনি বিভিন্ন সময় ভুয়া অ্যাপস তৈরি করে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বেকার যুবকসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন এবং কিছুদিন পর অ্যাপসগুলো বন্ধ করে দিতেন। গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে তিনি ‘Hamkail Moakael’ নামের একটি টেলিগ্রাম আইডি ব্যবহার করে নিজেকে ৪০০ বছরের ‘জিনের বাদশা’ পরিচয় দিতেন এবং অলৌকিক ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেল) নাজরান রউফ বলেন, আসামি দুটি অ্যাপস বানিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। জিনের বাদশা সেজে ভয় দেখানোর কথাও তিনি স্বীকার করেছেন। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি রাকিবুল হাসানসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

















