মোদির বাসভবনের সামনে বিরোধী জোটের অবস্থান, রাহুল, প্রিয়াঙ্কা ও অখিলেশ আটক

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে তীব্র বিক্ষোভ করছেন দেশটির বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার পর আজ সকাল থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত ছিল। এর প্রতিবাদে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের শরিক দলগুলোর নেতারা আকস্মিকভাবে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তারা সেখানে বসে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ দাবি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের মতো অতি-সুরক্ষিত এলাকায় বিরোধী নেতাদের এই আকস্মিক উপস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত তৎপর হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়।
প্রথমে নেতাদের সেখান থেকে উঠে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা অনড় থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ জোরপূর্বক রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। আটক নেতাদের দিল্লির একটি স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আটক হওয়ার পূর্বমুহূর্তে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘নিজেদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বর লাঠিপেটা ও টিয়ার গ্যাস ছড়া হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে মেনে নেওয়া যায় না। মোদি সরকার কাপুরুষের মতো শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। আমরা এই স্বৈরাচারী আচরণের শেষ দেখে ছাড়ব।’
অখিলেশ যাদব বলেন, `সরকার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ব্যর্থ, আবার শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তাদের ওপর লাঠি চালায়। এই ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও সংসদ—উভয় জায়গাই উত্তাল থাকবে।’
বিরোধী নেতাদের এই গণআটকের পর দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইন্ডি জোটের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে আরও বড় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
















