মার্কিন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’র জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের

ইরানের মূল বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের নজিরবিহীন ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ বা সর্বাত্মক আর্থিক আক্রমণের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটনের এই নজিরবিহীন হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরান পাল্টা কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়েছে, এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে তারা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ববাজারের তেল সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে।
মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও সমন্বিত আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বা ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’র পরিকল্পনার মধ্যে বেশকিছু বিষয় রয়েছে। এরমধ্যে ফ্রন্ট কোম্পানি, ছায়া ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং গোপন তেল বাণিজ্য বন্ধ করে ইরানের অর্থনীতির চাকা সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া।
ইরানের সঙ্গে যেসব দেশ বা বিদেশি ব্যাংক আর্থিক লেনদেন বা বাণিজ্য বজায় রাখবে, তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ইরানের প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ চীন এবং অন্যান্য বড় বাণিজ্যিক অংশীদার যেমন ভারত, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। এর জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং নিরাপত্তা কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান যদি তেল বিক্রি করতে না পারে, তবে পারস্য উপসাগর থেকে অন্য কোনো দেশকেও তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, তা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
যেসব প্রতিবেশী বা আঞ্চলিক দেশ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক অভিযানে অংশ নেবে বা তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরকে সরাসরি ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করে তাদের জাতীয় স্বার্থে আঘাত করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং তাদের বিশাল জাতীয় ঋণ (প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার) থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরানোর একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে উপহাস করেছেন।
এই দুই পরমাণু ও সামরিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতি তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে একটি সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়াতে ওমান, কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো ওআইসি এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিন চাপ সত্ত্বেও বেইজিং ইরানের সঙ্গে তাদের কৌশলগত জ্বালানি অংশীদারিত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যেও উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।









