বগুড়ায় নারী প্রশিক্ষণার্থীকে হেনস্তায় এনসিপি নেতাকে জুতাপেটা

বগুড়ায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শিবগঞ্জ উপজেলার এক নেতাকে জুতাপেটা করেছেন ভুক্তভোগী নারীরা। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল শুক্রবার রাতে ওই নেতাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অব্যাহতি পাওয়া ওই নেতার নাম আলী আজম সাব্বির। তিনি এনসিপি শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের সমন্বয়কারী সদস্য ছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাতে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে তাঁকে দলের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধ এক নারী এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বিরকে জুতো দিয়ে পিটাচ্ছেন এবং সাব্বির হাত জোড় করে ক্ষমা চাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলী আজম সাব্বির বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে অপ্রীতিকর কথাবার্তা বলতেন এবং গভীর রাতে কুরুচিপূর্ণ মেসেজ পাঠিয়ে আসছিলেন। তাঁর এমন আপত্তিকর আচরণে অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৪ মে দুপুরের দিকে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী মিলে তাঁকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। সেখানে নিজের অপরাধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক নারী তাঁকে জুতাপেটা করেন। এ সময় আলী আজম সাব্বির উপস্থিত সবার সামনে নিজের দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান।
বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভিং-বিষয়ক প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আলী আজম সাব্বির বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে চরম অশালীন আচরণ করেছেন। যার কারণে ভুক্তভোগী একজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাঁকে জুতাপেটা করেছেন। ঘটনার পর সাব্বির নিজের দোষ স্বীকার করে টিটিসি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, সরকারি অফিস খোলার পর একাডেমি কাউন্সিলের জরুরি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাব্বিরের ছাত্রত্ব বাতিলসহ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নারীদের হেনস্তা ও অশালীন আচরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়া মাত্রই কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে আলী আজম সাব্বিরকে সংগঠনের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর এমন নৈতিকতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না মিললে তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।”










