গুপ্তচরবৃত্তির শঙ্কায় চীনের কোনও উপহার সাথে নিলেন না ট্রাম্পের সঙ্গীরা

বাণিজ্য এবং বিরল খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তির প্রত্যাশায় চীনে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সয়াবিন এবং বোয়িং বিমান নিয়ে চুক্তি ছাড়া আর কোনও সমঝোতা হয়নি দুই দেশের। সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে চীন থেকে পাওয়া সব উপহারও বেইজিংয়েই ফেলে গেছেন ট্রাম্পের সফরসঙ্গীরা।
চীন সফরে মার্কিন প্রতিনিধিদলের ব্যবহৃত সাময়িক ‘বার্নার ফোন’ও নষ্ট করে তবেই এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠেন ট্রাম্প ও তার সঙ্গীরা। চীনে মার্কিন প্রতিনিধিদল প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে। তবে এবারের ঘটনা সবার চোখের সামনেই ঘটেছে।
মার্কিন প্রতিনিধিদল তাদের দুই দিনের সফরে চীনা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পেয়েছিল ‘বার্নার ফোন’, ল্যাপেল ব্যাজ, সংবাদিক বৈঠকের আমন্ত্রণপত্র এবং বিভিন্ন স্মারক। সবকিছুই তারা ফেলে গেছেন। এমনকি স্যুভেনির পর্যন্ত সঙ্গে রাখেননি। বিমানের সিঁড়ির নিচে রাখা একটি ঝুড়িতে তারা সেগুলো ফেলে দেন।
কী কারণে এমন করেছেন মার্কিনিরা? চীনের গুপ্তচরবৃত্তি বা নজরদারির কোনোরকম সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেওয়া। ফলে ট্রাম্পের চীন সফরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
মূলত গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনে ফিরে যাওয়ার আগে, ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একে অপরের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে থাকে।
তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থাগুলো কেবল যাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদল চীনে যাওয়ার আগেই তাদের ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রে রেখে গিয়েছিলেন। মোবাইল, ল্যাপটপ সবই তারা যুক্তরাষ্ট্রে রেখে গিয়েছিলেন। সম্ভাব্য হ্যাকিংয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতেই তা করা হয়েছিল।
সাময়িক কথাবার্তার জন্য ‘বার্নার ফোন’ ছিল প্রত্যেকের কাছে। সাময়িক বিদেশযাত্রার জন্য এই ধরনের ফোন ব্যবহার করা হয়। এগুলো তুলনামূলক সস্তা এবং এতে আধুনিক সুযোগসুবিধা তেমন থাকে না। ফলে এই ধরনের ফোন ‘হ্যাক’ করলেও শত্রু পক্ষের লাভ হয় না।
মূলত সাইবার নিরাপত্তার দিকগুলো মাথায় রেখেই মার্কিন প্রতিনিধিদের চীন সফরে এই ফোন ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার আগে সেই ফোন তারা নষ্ট করেন।
মার্কিন গোয়েন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই নিত্য ব্যবহারযোগ্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বাড়তি কড়াকড়ি থাকে। চীন তার মধ্যে অন্যতম।
গোয়েন্দারা বলছেন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সঙ্গে থাকলে তা হ্যাক করার চেষ্টা হতে পারে। ক্ষতিকর সফ্টওয়্যার তাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হতে পারে। নানাভাবে ওই সমস্ত ‘ডিভাইস’ থেকে তথ্য বের করে নেওয়াও হতে পারে অজান্তে।
এমনকি, সুইচ-অফ করা মোবাইল ফোনও শত্রুর নিশানা হতে পারে। এই ধরনের সম্ভাবনা এড়াতেই চীন সফরে কেউ মোবাইল নিয়ে যাননি। সেখান থেকে পাওয়া কোনও জিনিস নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেননি।

















