আকর্ষণীয় বেতন তবুও মেট্রোরেলের চাকরি ছাড়ছেন কর্মীরা

জাতীয় বেতন স্কেলের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেতন পাওয়ার পরও মেট্রোরেল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) চাকরি ছাড়ছেন দক্ষ কর্মীরা। ২০১৩ সালে কোম্পানি গঠিত হলেও গত এক দশকে কোনো ‘সার্ভিস রুল’ বা চাকরি বিধিমালা তৈরি না হওয়া এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাই এই গণ-ইস্তফার প্রধান কারণ বলে জানা গেছে।
ডিএমটিসিএলের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সহকারী ব্যবস্থাপক, সেকশন ইঞ্জিনিয়ার, ট্রেন অপারেটর এবং স্টেশন কন্ট্রোলারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের দক্ষ জনবল।
চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের অভিযোগ, ডিএমটিসিএলে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। কোনো স্থায়ী চাকরি বিধিমালা না থাকায় ভবিষ্যতের পদোন্নতি ও স্থায়ীকরণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা কাজ করে। এছাড়া শিফটিং ডিউটি, সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করা এবং অতিরিক্ত কাজের (ওভারটাইম) জন্য কোনো বাড়তি ভাতা না থাকাও কর্মীদের নিরুৎসাহিত করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রাক্তন কর্মী জানান, “আমি ১০ম গ্রেডে যোগ দিলেও সার্ভিস রুল না থাকায় ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছিলাম। তাই সুযোগ পাওয়ামাত্রই অন্য প্রতিষ্ঠানের ৯ম গ্রেডের স্থায়ী চাকরিতে চলে এসেছি।”
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম জানান, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীরা শুরুতে ভালো বেতন দেখে এখানে যোগ দিলেও পরে বিসিএস বা আরও ভালো ক্যাডার সার্ভিসের সুযোগ পেয়ে চলে যান। সার্ভিস রুলের বিষয়ে তিনি জানান, বিধিমালাটি বোর্ড অনুমোদন করেছে এবং বর্তমানে এটি মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের অপেক্ষায় আছে।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বিষয়টিকে মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “মেট্রোরেল একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত সিস্টেম। এখানে রাতারাতি দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব নয়। দ্রুত সার্ভিস রুল অনুমোদন করে দক্ষ জনবল ধরে রাখার নীতি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।”
একদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞদের চলে যাওয়া মেট্রোরেল অপারেশনাল সক্ষমতাকে দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

















