ভারত মহাসাগরে আধিপত্য রক্ষায় নৌবহরে ২০০ জাহাজের লক্ষ্য ভারতের

ভারত মহাসাগরে নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে নৌবাহিনীর জাহাজের সংখ্যা ২০০-তে উন্নীত করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ভারত। চীন ও পাকিস্তানের যৌথ নৌ-শক্তি বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও উইয়ন এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান নৌবহর এবং ইসলামাবাদের আধুনিক ডুবোজাহাজ কেনার কৌশলগত চাপ মোকাবেলায় নয়া দিল্লি এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বেইজিং বর্তমানে ৩৭৫টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবহর পরিচালনা করছে। ভারত মহাসাগরে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে, চীনের সহায়তায় পাকিস্তান প্রায় ৫০০ কোটি ডলার চুক্তিতে আটটি অত্যাধুনিক ‘হ্যাঙ্গর-শ্রেণির’ আক্রমণাত্মক ডুবোজাহাজ নিজেদের বহরে যুক্ত করা শুরু করেছে, যা ভারতের নৌ-নিরাপত্তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
ভারতের বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা
ভারতের নৌবাহিনীতে বর্তমানে প্রায় ১৫০টি সচল জাহাজ ও ১৭টি ডুবোজাহাজ রয়েছে। এই সংখ্যাকে ২০০-এর উপরে নিয়ে যেতে ভারত ব্যাপক অভ্যন্তরীণ যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ কর্মসূচি শুরু করেছে। চলতি মাসে ভারত সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট আইএনএস মহেন্দ্রগিরি এবং ডুবোজাহাজ শিকারি যুদ্ধজাহাজ আইএনএস মালভান নৌবহরে যুক্ত করেছে। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে প্রায় ৫৫টি ছোট-বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের কাজ চলছে।
আরও ৭৪টি নতুন যুদ্ধজাহাজ ও ডুবোজাহাজ ক্রয়ের জন্য প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার আনুমানিক বাজেট ২.৩৫ লাখ কোটি রুপি। এর মধ্যে রয়েছে ৯টি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন, ৭টি স্টেলথ ফ্রিগেট এবং ৪টি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার।
আত্মনির্ভরশীলতা ও কৌশলগত জোট
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির অংশ হিসেবে ভারত তার নতুন যুদ্ধজাহাজগুলোর প্রায় ৭৫% উপাদান দেশীয়ভাবে তৈরি করছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ঘাটতি মেটাতে ভারত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করেছে। যুদ্ধজাহাজের রাডার ফাঁকি দেওয়ার প্রযুক্তি যৌথভাবে উন্নয়নের জন্য ভারত চলতি মাসেই জাপানের সাথে চুক্তি সই করেছে।
ভারতের দূরপাল্লার যুদ্ধজাহাজের জন্য ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কাছ থেকে উন্নত প্রোপালশন ও সেন্সর প্রযুক্তি নেওয়ার আলোচনা চলছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই ২০৩৫ লক্ষ্যমাত্রা কেবল সংখ্যার প্রতিযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রধান সামুদ্রিক রুট সুরক্ষিত রাখা এবং এশীয় অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কৌশলগত পদক্ষেপ।

















