‘হরমুজের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেওয়া সম্ভব’ ট্রাম্পের মন্তব্য

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে এই কৌশলগত জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউস বর্তমানে হরমুজ প্রণালি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ‘চিন্তাভাবনা’ করছে। এই জলপথটির ওপর কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অঢেল সক্ষমতা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন অঞ্চলটিতে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রণালিতে যেকোনো ধরণের সামরিক হস্তক্ষেপ বা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা সরাসরি বৈশ্বিক তেলের দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেনি। তবে তেহরান স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে যে, কোনো মার্কিন বা ইসরাইলি ট্যাংকার যদি এই পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাতে তাৎক্ষণিক হামলা চালানো হবে। ইরান সরকারের এমন কঠোর অবস্থানে এই অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হোয়াইট হাউস থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সামরিক নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন তার এই ‘কৌশলগত চিন্তা’ বাস্তবে প্রয়োগের পথে হাঁটবে, নাকি এটি কেবল একটি কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কৌশল।

















