ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোকে একহাত নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ট্রাম্পের

ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাশে পাননি ন্যাটোর কোনো দেশকে। তাই এই জোটের ওপর ক্ষোভ উগরেছেন তিনি। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তের সাথে হোয়াইট হাউজে দুই ঘণ্টার বৈঠকের পরমিত্রদের একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়াও ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের পুরনো হুমকিও ফের দিয়েছেন।
বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ বড় হাতের অক্ষরে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের যখন প্রয়োজন ছিল তখন ন্যাটো পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলেও তারা থাকবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক পরদিনই ন্যাটোর প্রধানের সঙ্গে দুই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ট্রাম্প।
বৈঠকের আগে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেছিলেন, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো ‘আমেরিকানদের পিঠ দেখিয়ে পালিয়েছে’, অথচ মার্কিনিরাই তাদের প্রতিরক্ষা তহবিলের যোগান দেয়।
তিনি ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাতে ফেল করেছে।’
ইরান যুদ্ধের সময় বেশ কিছু ন্যাটোভুক্ত দেশ মার্কিন যুদ্ধবিমানকে তাদের আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। এমনকি জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার অভিযানে নৌবাহিনী পাঠাতেও তারা অস্বীকৃতি জানায়।
এ কারণে ট্রাম্প ন্যাটোকে বারবার ‘কাগুজে বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থানে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে যে, তিনি হয়ত যুক্তরাষ্ট্রকে এই জোট থেকে সরিয়ে নিতে পারেন।
ন্যাটো মহাসচিব রুত্তের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ডেনমার্কের অধীনস্থ গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি পুনরায় দিয়ে লেখেন, ‘সেই বিশাল এবং অব্যবস্থাপনার বরফখণ্ড গ্রিনল্যান্ডের কথা মনে রাখুন!!!’
ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর আগেও গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে ট্রাম্পের একরোখা অবস্থানের কারণে ্যোটোর ভেতর অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল।
সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্ক রুত্তে বলেন, ট্রাম্প অনেক ন্যাটো মিত্রের ওপর পরিষ্কারভাবে ‘হতাশ’। তবে তিনি ট্রাম্পের সমালোচনার বিপরীতে যুক্তি দিয়েছেন যে, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ ঘাঁটি সরবরাহ, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছে।
রুত্তে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যা করেছে, তা করতে পেরেছে কারণ অনেক ইউরোপীয় দেশ তাদের অঙ্গীকার পূরণ করেছে। তবে সবাই তা করেনি, এবং সে কারণেই ট্রাম্পের এই হতাশা আমি বুঝতে পারছি।’
ন্যাটো সদস্যরা ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘অবৈধ’ মনে করছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে রুত্তে তা নাকচ করে দেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার বিষয়ে ইউরোপে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী কূটনীতির পরিবর্তে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, আলোচনা দীর্ঘায়িত করলে ইরান উত্তর কোরিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে ফেলত, তখন আর কিছুই করার থাকত না।
তবে ট্রাম্প ন্যাটো ছাড়ার সরাসরি হুমকি দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে রুত্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের সময় যেসব ন্যাটো দেশ অসহযোগিতা করেছে, সেসব দেশ থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে নিয়ে ট্রাম্প তাদের শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
তবে পুরো জোট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে হলে ট্রাম্পের মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

















