ইরানের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বেহাল অবস্থা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নতুন আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের চলমান ছায়াযুদ্ধ। ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক শক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত বেশ কিছু ঘাঁটি এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপ।
স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইরান মূলত ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশল গ্রহণ করেছে। ১৬টি ঘাঁটিতে চালানো এই হামলায় মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত উন্নত রাডার সিস্টেম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ কেন্দ্র এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো কেবল ব্যয়বহুলই নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার প্রধান হাতিয়ার।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি ঘাঁটির মধ্যে অন্তত ৫টি ঘাঁটি বর্তমানে ‘পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী’। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি এতটাই ব্যাপক যে সেগুলো মেরামত করা অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে লাভজনক হবে না। বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থিত কয়েকটি লজিস্টিক হাব স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তা করছে ওয়াশিংটন।
পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার খরচের কথা স্বীকার করলেও, সিএনএন-এর সূত্র মতে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ধ্বংস হওয়া এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের যন্ত্রাংশ, প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের রাডার এবং দীর্ঘ মেয়াদী অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি। ইরানের এই কৌশলকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, যেখানে সরাসরি প্রাণহানির চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল সম্পদ ধ্বংস করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও স্থায়ী শান্তির সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এমন সব শর্ত দিচ্ছে যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘ইরান আমাদের দুর্বল করতে চাইছে, কিন্তু আমরা এমন কোনো চুক্তিতে যাব না যা এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের বিপদে ফেলে।’
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’শান্ত হবে না।

















