নেপালে বন্যার নয়দিন পর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার

নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যার ৯ দিন পর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে তাদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ভেতরে এখনও অনেক মানুষ আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের বের করে আনতে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুড়ঙ্গ থেকে প্রথম উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি হলেন সঞ্জয় শাহ। তিনি নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় ব্যক্তির নাম কবির মহর্জন।
তাদের হাত ও পায়ে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। সুড়ঙ্গের ভেতর কঠিন পরিস্থিতিতে হামাগুড়ি দিয়ে চলতে গিয়ে তাদের শরীরে এসব ক্ষত তৈরি হয়েছে।
এনইএ-র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সুরেশ রাউত বিবিসিকে বলেন, সঞ্জয় শাহকে অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি এখনও কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর উত্তর-পশ্চিমে বাটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, কবির মহর্জন সুড়ঙ্গ থেকে বের হওয়ার সময় ‘হাসিমুখে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান’ বলেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ।
সঞ্জয়ের সহকর্মী সুরেশ চৌধুরী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিবিসিকে বলেন, ‘আমার যে কী আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না। কত দিন ধরে শুধু এই একটা খবরটার জন্যই তো প্রহর গুনছিলাম। ও উদ্ধার হওয়ায় সুড়ঙ্গে আটকে থাকা বাকিদেরও জীবিত ফিরে পাওয়ার নতুন আশা জাগছে।’
সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে প্রথম যোগাযোগের রোমাঞ্চকর মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে হঠাৎ মানুষের অস্পষ্ট আওয়াজ পেয়ে উদ্ধারকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘ভয় পাবেন না, আমরা আপনাদের উদ্ধার করতে এসেছি।’
বন্যা ও ধসের পর থেকে নেপালে এখনও ৫ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নদী তীরবর্তী বিশাল সুড়ঙ্গে কাজ করা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কয়েকশ শ্রমিক রয়েছেন তাদের মধ্যে।
বিবিসি নেপালকে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র এই ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সুড়ঙ্গ থেকেই তারা অন্তত ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারবেন বলে আশা করছেন। ইতোমধ্যে উদ্ধার পাওয়া শ্রমিকদের ছবিও প্রকাশ করেছে নেপাল কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ত্রিশূলি ৩এ ছাড়াও অন্তত আধা ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে পৃথক উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব সুড়ঙ্গে এখনও দেড়শর বেশি মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে প্রকৌশলীরা প্রতিনিয়ত সুড়ঙ্গগুলোর ভেতরে বাতাস পাম্প করে পাঠাচ্ছেন।
গত ২৬ অগাস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের যে বিধ্বংসী ঢল নেমেছিল, তাতে ১২ শর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
















