রাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সিট দখল ও প্রাধ্যক্ষকে হুমকির অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আব্দুল লতিফ হলের আসন দখল ও প্রাধ্যক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ওই হলের একটি কক্ষে দুজন অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে উঠানোর পর প্রাধ্যক্ষ কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিলে তাকে হুমকি দেন মুরাদ।
প্রাধ্যক্ষ মো. আতাউল্যাহ জানান, মঙ্গলবার মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে মুরাদ তাকে বলেন, “৩০ মিনিটের মধ্যে তালা না খুললে ভেঙে ফেলা হবে।” এরপর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয় বলে জানান প্রাধ্যক্ষ।
জানা গেছে, সম্প্রতি প্রাধ্যক্ষের অনুমতি ছাড়াই দুই অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে হলের ১৫৮ নম্বর কক্ষে তোলেন ছাত্রদল নেতা মুরাদ হোসেন। বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার দুই শিক্ষার্থীকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে পাঠান প্রাধ্যক্ষ। তবে তারা দেখা না করে কক্ষে তালা দিয়ে হলের বাইরে চলে যান। পরে প্রাধ্যক্ষের নির্দেশে হলের কর্মচারীরা কক্ষে আরেকটি তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রাধ্যক্ষ মো. আতাউল্যাহ বলেন, কয়েক দিন ধরেই তিনি শুনছিলেন, কিছু অনাবাসিক শিক্ষার্থীকে ওই কক্ষে রাখা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মানুযায়ী কক্ষে তালা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে তার ফোনে কল আসে। ফোনদাতা নিজেকে লতিফ হল ছাত্রদলের সভাপতি মুরাদ হোসেন পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীদের তিনিই কক্ষে উঠিয়েছেন। আপনি রুম খুলে দেবেন কি না, এইটা বলেন। আপনাকে আধা ঘণ্টা সময় দিলাম। তালা খুলে দিলে দেন, না হলে আমি গিয়ে তালা ভেঙে ফেলব।’ কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আপনি তো আর বেশি দিন নাই স্যার।’
হুমকির পর তালা খুলে দেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি নিয়ে হলে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। এ কারণে কর্মচারীদের দিয়ে তালা খুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। ২৫ মে পাকিস্তান সফর শেষে উপাচার্য দেশে ফিরলে তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ১৫৮ নম্বর কক্ষে দুই শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। তাদের একজন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামরুজ্জামান ও অন্যজন আরবি বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাবিদ।
অভিযোগের বিষয়ে মুরাদ হোসেনের মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসের বাইরে একটা কাজে ব্যস্ত আছি। ক্যাম্পাসে ফিরে আপনাদের বিস্তারিত বলব।’
যোগাযোগ করলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ (রাহী)বলেন, কিছুক্ষণ আগে এক সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ ব্যাপারে মুরাদের ভাষ্য, তিনি কাউকে ফোন দিয়ে হুমকি দেননি। কোনো শিক্ষার্থীকেও হলে তোলেননি। তারপরও কেন তার নাম এসেছে, তিনি জানেন না। এরপরও হল প্রাধ্যক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য মাঈন উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন পর আবাসিক হলে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর ব্যত্যয় ঘটুক, তা তারা কোনোভাবেই চান না। হল প্রাধ্যক্ষ উপাচার্য বরাবর লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। উপাচার্য দেশে ফিরলে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

















