ইরানে ফের হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন বাহিনী যদি ইরানে আবারও হামলা চালায়, তবে তাদের এবার আরও বড় ধরনের ‘সারপ্রাইজ’ বা চমক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান প্রথম ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে, তা এখন প্রমাণিত। বিগত দিনের যুদ্ধ থেকে আমরা যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তাতে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে এবার মার্কিনদের জন্য আরও অনেক বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।”
নিজের দাবির সপক্ষে মার্কিন কংগ্রেসের অদলীয় গবেষণা সংস্থা ‘কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস’-এর সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের তথ্যও উল্লেখ করেন আরাঘচি। তিনি জানান, খোদ মার্কিন কংগ্রেসই স্বীকার করেছে যে যুদ্ধে তাদের শত কোটি ডলার মূল্যের ডজন ডজন যুদ্ধবিমান খোয়া গেছে।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে প্রকাশিত ওই মার্কিন গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলকে সঙ্গে নিয়ে মার্কিন যৌথ যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ড্রোনসহ অন্তত ৪২টি ফিক্সড-উইং (স্থির ডানাবিশিষ্ট) এবং রোটারি-উইং (হেলিকপ্টার জাতীয়) যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বিস্ফোরক মন্তব্যটি ঠিক এমন এক সময়ে এলো, যার ঠিক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানকে মাত্র ‘দুই থেকে তিন দিন’ সময় বেঁধে দিয়েছেন। তবে এর মধ্যেই কিছুটা আশার আলো শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি জানিয়েছেন, আলটিমেটাম ও উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষই ‘অনেক অগ্রগতি’ করতে সক্ষম হয়েছে।







