দীর্ঘ ২০ বছর পর চাঁদপুরে তারেক রহমান, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের চাঁদপুর আগমনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর চাঁদপুরে তার এই সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। সফর উপলক্ষে শুক্রবার সকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি। সেখানে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে দলীয় ও প্রশাসনিক সব ধরনের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চাঁদপুরবাসী তার আগমনের মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছে।
সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরসূচি অনুযায়ী, তিনি সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় এক পথসভায় যোগ দেবেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজার এলাকায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার কুমারডুগি-ঘোষেরহাট এলাকায় বিশ্বখাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে বিকেল ৫টায় স্থানীয় চাঁদপুর ক্লাবে দলের সাংগঠনিক সভায় যোগ দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।
জেলা বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার কারণে অতীতের মতো এবার অতিরিক্ত তোরণ, পোস্টার, ফেস্টুন বা ব্যানারের প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে না। ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারণাকে সম্পূর্ণ নিরুৎসাহিত করায় জেলা শহরসহ সর্বত্র একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রয়েছে। তবে সফরকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে প্রতিদিন আনন্দ মিছিল ও গণসংযোগ চলছে, যেখানে নেতাকর্মীদের হাতে শুধু দলীয় ও জাতীয় নেতাদের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। এদিকে দীর্ঘদিনের অবহেলিত খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এই খালগুলো খনন হলে অঞ্চলের জলাবদ্ধতা দূর হবে, সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই সফর চাঁদপুরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সেলিম উল্ল্যা সেলিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক বলেই সরকারের মাত্র তিন মাসের মাথায় এই জেলাকে সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন। এদিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার রবিউল হাসান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে প্রস্তুত রয়েছে এবং পুরো জেলাজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই শেষবার চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন তারেক রহমান।












