ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে অনন্য উচ্চতায় মেসি

ফুটবল ইতিহাসের পাতায় দিয়েগো ম্যারাডোনা ছিলেন এক জাদুকরী নাম, আর লিওনেল মেসি সেই জাদুকে নিয়ে গেছেন মহাকাশসম উচ্চতায়। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। আর এই আসরেই আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি অধিনায়ক হিসেবে দিয়েগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে সফল এবং লড়াকু অধিনায়ক হিসেবে এতকাল ডিয়েগো ম্যারাডোনার নাম সবার উপরে ছিল। কিন্তু আসন্ন বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে টানা ১৮তম ম্যাচে মাঠে নামার সাথে সাথেই মেসি ম্যারাডোনার পূর্বের সব রেকর্ড ম্লান করে দেবেন। এটি হবে মেসির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা ইতিহাসের প্রথম কোনো ফুটবলারের এমন কীর্তি।
ম্যারাডোনা ছিলেন মাঠে আগ্রাসী এবং উচ্চকণ্ঠের নেতা। অন্যদিকে মেসি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শান্ত কিন্তু অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক ধীমান নেতা হিসেবে। ২০১১ সালে নেতৃত্বের আর্মব্যান্ড বুঝে নেওয়ার পর থেকে মেসি যেভাবে পুরো দলকে একসূত্রে গেঁথেছেন, তা বিস্ময়কর। বর্তমান দলে ওতামেন্দি, লাউতারো মার্টিনেজ কিংবা এনজো ফার্নান্দেজের মতো একাধিক ক্লাব অধিনায়ক থাকা সত্ত্বেও, মেসির নেতৃত্বের ছায়াতলে সবাই একনিষ্ঠ সৈনিকের মতো কাজ করেন।
ইকুয়েডরের বর্তমান কোচ সেবাস্টিয়ান বেকাসেসের মতে, গত দুই দশক ধরে ফর্মের শীর্ষে থেকেও মেসির নম্রতা এবং দলকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অবিশ্বাস্য। তাঁর এই প্রশ্নহীন নেতৃত্ব কোচ লিওনেল স্কালোনির কাজকে সহজ করে দিয়েছে। দলে শৃঙ্খলার কোনো ঘাটতি নেই, বরং আছে প্রিয় নেতার জন্য মাঠে জান লড়িয়ে দেওয়ার এক অদম্য মানসিকতা।
১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনাকে যেভাবে বিশ্বজয় করিয়েছিলেন, ২০২২ সালে মেসিও সেই একই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, অধিনায়ক হিসেবে ম্যারাডোনা যতগুলো বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মেসি এবার তাকে ছাড়িয়ে যেতে চলেছেন। টানা চারটি বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ষষ্ঠবারের মতো বৈশ্বিক আসরে অংশগ্রহণ—মেসিকে নিয়ে গেছে এমন এক উচ্চতায় যেখানে হয়তো আগামী কয়েক দশকেও কেউ পৌঁছাতে পারবে না।
মেসির এই অদম্য ক্ষুধা আর জাতীয় দলের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পুরো আলবিসেলেস্তে বাহিনীকে আরও একবার বিশ্বজয়ের লক্ষে তাতিয়ে তুলছে। আগামী বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার এই ‘ক্ষুধার্ত নেকড়েরা’ পুনরায় সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে কতটা প্রস্তুত, এখন কেবল সেটাই দেখার অপেক্ষা।

















