যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সাইয়েদ, নির্বাচিত হলেন প্রথম মুসলিম সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো। মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই লড়াইয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন।
২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের আসনটি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন ৪২ বছর বয়সী এই চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মোট ভোটের প্রায় ৫২.৩% পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৫.৭% ভোট।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) এর আগে মুসলিম সদস্যরা নির্বাচিত হলেও, সিনেটের ২৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মুসলিম আমেরিকান সদস্য আসন লাভ করলেন।
এই নির্বাচনটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল মূলত এর পেছনে থাকা বিশাল অঙ্কের কর্পোরেট ও লবিং অর্থের কারণে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচক এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের কারণে এল-সাইয়েদকে ঠেকাতে মরিয়া ছিল ইসরায়েল-পন্থি লবিং গ্রুপ এআইপিএসিসহ বিভিন্ন ডানপন্থি গোষ্ঠী।
এল-সাইয়েদের নির্বাচনী শিবিরের তথ্যমতে, তাকে পরাজিত করতে লবিং গ্রুপগুলো প্রায় ৪২ মিলিয়ন ডলার খরচ করে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক ও নেতিবাচক প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের ঠিক দুদিন আগে ডেমোক্র্যাট দলের অভ্যন্তরীণ প্রাইমারির সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী হেইলি স্টিভেন্সও দলীয় লাইন ভেঙে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্সকে সমর্থন জানান, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সাইয়েদ শুরু থেকেই মার্কিন নাগরিকদের করের টাকায় বিদেশের যুদ্ধে অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহের বিরোধিতা করে আসছিলেন। গাজার পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে ইসরায়েলে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তোলেন তিনি। এর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধনকুবেরদের ওপর উচ্চ কর আরোপ, সবার জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় সংকোচন এবং রাজনীতি থেকে কর্পোরেট অর্থের প্রভাব দূর করার মতো প্রগতিশীল এজেন্ডাগুলো তার বিজয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছে।
ডেট্রয়েটে বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগঘন এক ভাষণে এল-সাইয়েদ তার ধর্মীয় বিশ্বাস, নাম এবং বংশপরিচয় নিয়ে প্রতিপক্ষের চালানো বর্ণবাদী ও ইসলামোফোবিক আক্রমণের কড়া জবাব দেন।
সমর্থকদের করতালির মাঝে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে তিনি তার বক্তব্য শুরু করেন। এল-সাইয়েদ বলেন, ‘মিশিগানের মানুষ আজ প্রমাণ করেছে যে ঘৃণা এবং অর্থ দিয়ে মানুষের রায়কে কেনা যায় না। ওয়াশিংটনের উচিত আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে বিদেশের মাটিতে বোমা না ফেলে, দেশের ভেতরের শিক্ষা, আবাসন ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা।’
বিশ্লেষকদের মতে, আবদুল এল-সাইয়েদের এই জয় মার্কিন রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও যুদ্ধবিরোধী শিবিরের জন্য একটি বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।







