ফুটবল ঈশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনার ৬৬তম জন্মদিন আজ

ফুটবল ইতিহাসের মহানায়ক এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনার ৬৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েনোস আইরেসের লানুস শহরের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ফুটবলের এই রাজপুত্র। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নেওয়া এই জাদুকর বেঁচে থাকলে আজ পা দিতেন ৬৬ বছরে।
ম্যারাডোনার ৬৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বিশ্বজুড়ে ফুটবল অনুরাগী, সাবেক সতীর্থ ও কোটি কোটি ভক্ত তাঁকে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে সকাল থেকেই চলছে তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালী মুহূর্ত ও জাদুকরী সব গোলের স্মৃতিচারণ।
দিয়েগো ম্যারাডোনা আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে ৯১ ম্যাচে করেছেন ৩৪ গোল। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় গৌরবময় অধ্যায় ছিল ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর করা দুটি গোল ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
হ্যান্ড অব গড: লাফিয়ে উঠে হাতের ছোঁয়ায় করা বিতর্কিত গোল, যা ম্যারাডোনা নিজেই পরবর্তীতে ‘ঈশ্বরের হাত’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
শতাব্দীসেরা গোল: ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঝমাঠ থেকে একাই বল টেনে নিয়ে পাঁচজন ইংলিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করে করা সেই গোল, যা ফিফার ভোটে বিংশ শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
ম্যারাডোনা ক্লাব ফুটবলে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনায় খেললেও ইতালির সাধারণ ক্লাব নাপোলিকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়। তাঁর জাদুকরী ছোঁয়ায় ১৯৮৭ ও ১৯৯০ সালে নাপোলি প্রথমবারের মতো ইতালিয়ান সিরি এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। নেপলসের মানুষের কাছে ম্যারাডোনা আজও এক ঈশ্বরের নাম। ২০০০ সালে পেলের সাথে যৌথভাবে ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন তিনি।
মাঠের ভেতরে ও বাইরের নানা বিতর্ক ম্যারাডোনার চিরসবুজ জনপ্রিয়তায় কখনো দাগ ফেলতে পারেনি। মৃত্যুর ছয় বছর পরেও ফুটবল বিশ্বে তাঁর নাম সমানভাবে উচ্চারিত হয়। কোটি ভক্তের হৃদয়ে তিনি বেঁচে আছেন—ফুটবল যতদিন থাকবে, ম্যারাডোনাও ততদিন অমর হয়ে থাকবেন ফুটবলপ্রেমীদের মনে।


