ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে এক হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই দফার ভূমিকম্পে মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে লোকজনকে জীবিত উদ্ধারের আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এক মিনিটেরও কম সময়ে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানে। পাঁচ দিন আগে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সরকারি ত্রাণের অপ্রতুলতায় ভেনেজুয়েলাজুড়ে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রয়টার্স ও এএফপির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
সোমবার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে এক হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভূমিকম্পে পাঁচ হাজার ৩৪ জন আহত হয়েছেন। বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার ৮৬৬।
ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ ৩০টি দেশের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার কথা জানিয়েছে। কতজন মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা, তা স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে খোলা ওয়েবসাইটগুলোর তথ্যমতে, প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত তিন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি টাস্ক ফোর্স তিন শতাধিক মার্কিন নাগরিকের অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছে। অন্য এক কর্মকর্তা জানান, তাদের হিসাব অনুযায়ী ভেনিজুয়েলায় প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন নাগরিক অবস্থান করছেন।
হতাহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত প্রায় ১৪০ জনও আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে শিশুও ছিল। তারা এমন একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন, যা ভূমিকম্পে ধসে পড়েছে।
উদ্ধার অভিযানের পঞ্চম দিনে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি ভবন পুরোপুরি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং আরও কয়েকশ ভবন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হতাহতদের সংখ্যা এত বেশি হওয়ার পেছনে সম্ভবত কয়েক দশকের অবহেলা, ভবন নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগে শিথিলতা এবং সাবেক নেতা হুগো চাভেজ ও নিকোলাস মাদুরোর শাসনামলে লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রভাব রয়েছে।
কারাকাস থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ছোট পাহাড়ি এলাকা এল জুনকিতোর বাসিন্দারা বলছেন, তারা সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা খুব কমই পেয়েছেন। বরং কৃষক এবং অন্যান্য স্থানীয় বাসিন্দারাই এখন একে অপরের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় রসদ বা ত্রাণের ব্যবস্থা করছেন।
কর্তৃপক্ষের কাছে নাগরিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তুলে ধরা ৩৩ বছর বয়সী ম্যানিকিউরিস্ট কেইলি ইবারা বলেন, আমরা জবাব চাইছি; চাইছি ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো দ্রুত পরিদর্শন করা হোক। তিনি সরকারকে পরিস্থিতির প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় একটি ক্যান্ডি দোকানের মালিক টনি আব্রেউ বলেন, আমরা জানি না, আমাদের কোথায় রাখা হবে বা কতদিন আমাদের এখানে থাকতে হবে। ভূমিকম্পের পর থেকে তিনি তাঁবুতে বসবাস করছেন, কারণ তার বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখন আর নিরাপদ নয়।
ভূমিকম্পে এল জুনকিতোর বাণিজ্যিক এলাকাটি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সেখানে অনেক ভবন ধসে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় অনেক মানুষ পাশের বিপজ্জনক ভবনগুলোর মধ্যেই খোলা মাঠে তাঁবুতে থাকছেন।







