ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার, নিখোঁজ ৫০-৬০ হাজার

ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সাম্প্রতিক বিধ্বংসী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ছাড়িয়েছে। গত ২৪ জুনের এই বিপর্যয়ের পর সোমবার পঞ্চম দিনের মতো উদ্ধার অভিযান চলমান আছে। সময়ের সাথে সাথে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আর কোনো মানুষকে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমান্বয়ে ফুরিয়ে আসছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলায় পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা গত ১২৫ বছরের মধ্যে দেশটির ইতিহাসে তীব্রতম। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরায়, যেখানে অন্তত ৭৭৪টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে মাটির সাথে মিশে গেছে।
সরকারিভাবে ৩,১৫০ জনের বেশি আহত এবং ১২,৭০০ জনের বেশি বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিখোঁজদের নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিনকে জীবিত উদ্ধারের ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় ধরা হয়। ইতোমধ্যে সেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় পানিশূন্যতা, তীব্র গরম এবং গুরুতর আঘাতের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে গেছে।
সুইজারল্যান্ডের উদ্ধারকারী দলের প্রধান সেবাস্তিয়ান ইুগস্টার জানান, তাদের অনুসন্ধানকারী কুকুরগুলো বেশ কিছু জায়গায় জীবিত মানুষের উপস্থিতি টের পেলেও সময়মতো পাথর ও কংক্রিট সরিয়ে তাদের বের করা সম্ভব হয়নি।
তবে এই হতাশার মাঝেও কিছু অলৌকিক ঘটনা আশার আলো দেখাচ্ছে। দুর্যোগের চার দিন পর গত রোববার কারাবালেদা নামক শহর থেকে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকর্মীরা এক বাবা ও তার কিশোর ছেলেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের শেষ সম্ভাবনাটুকু থাকা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হবে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, স্পেন, মেক্সিকো এবং সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ৪৪টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল, শত শত বিশেষজ্ঞ ও আধুনিক থার্মাল গিয়ার নিয়ে দিনরাত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে উপদ্রুত এলাকায় নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কিছু এলাকায় দোকানপাট ও শপিংমলে লুটতরাজের ঘটনা ঘটায় সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ৭৫ শতাংশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং অনবরত আফটারশক হতে থাকায় দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় হিসেবে ঘোষণা করেছে।







