পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করতে ইরান একমত: ট্রাম্পের দাবি

ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন বড় ধরনের নিশ্চয়তা পাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের কাছে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর শর্ত যুক্ত নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠানোর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সামনে আসার পরপরই ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে দুটি অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে আসছেন। প্রথমটি হলো—ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব ধরনের চেষ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং দ্বিতীয়টি হলো—আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সর্বদা উন্মুক্ত রাখা।
স্থানীয় সময় শনিবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে আমার একমাত্র যে গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তাটির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তা হলো—সেখানে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না। তারা (তেহরান) শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে একমত হয়েছে। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল।”
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং অ্যাক্সিওস শনিবার পৃথক প্রতিবেদনে জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিবেচনার জন্য কিছু অত্যন্ত কঠোর শর্ত যুক্ত করে একটি নতুন খসড়া রূপরেখা বা শান্তি প্রস্তাব তেহরানে পাঠিয়েছেন। তবে এই নতুন শান্তি প্রস্তাবে ঠিক কী কী শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তা মার্কিন প্রশাসন বা হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে এখনো স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই নতুন কঠোর শর্তগুলোর কারণেই চুক্তির সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করলেও তেহরান এর আগে ট্রাম্পের এমন সব একক দাবি নিয়ে বারবার সন্দেহ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, নিজেদের মূল রাজনৈতিক ও কৌশলগত অগ্রাধিকারগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান এখনো একে অপরের থেকে বেশ দূরেই রয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি করা নিয়ে নানামুখী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা, তীব্র বাদানুবাদ এবং মাঝে মধ্যে সীমান্তে বা আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। এত কিছুর পরও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থা বা উত্তেজনা বন্ধের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো টেকসই অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে ট্রাম্পের এই নতুন দাবিকে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক আপাতত মার্কিন প্রশাসনের একতরফা মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

















