দক্ষিণ সুদানে মিশনে গিয়ে সেনা কর্মকর্তা চপলের মৃত্যু

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে আফ্রিকান দেশ দক্ষিণ সুদানে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (হার্ট অ্যাটাক) মারা গেছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার কৃতি সন্তান ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মহিউদ্দিন চপল। উগান্ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্বে অত্যন্ত দক্ষ ও নিষ্ঠাবান সেনা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন চপল মাত্র দুই মাস আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দলের সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের দায়িত্ব নিয়ে দক্ষিণ সুদান যান। শনিবার সেখানে ডিউটিরত অবস্থায় হঠাৎ তিনি তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরিস্থিতির অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডার একটি সামরিক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে রাতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
মহিউদ্দিন চপলের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজী বাজার এলাকায়। শনিবার রাতে সুদানে তাঁর মৃত্যু হলেও আজ রোববার (৩১ মে) দুপুরের দিকে প্রত্যন্ত গ্রামের বাড়িতে এই দুঃসংবাদ পৌঁছায়। সেনা সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করার পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের স্তব্ধতা নেমে আসে।
একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বৃদ্ধ বাবা দেলোয়ার হোসেন মেম্বার এবং মা পুত্রশোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কোনো সান্ত্বনাই তাঁদের শান্ত করতে পারছে না। কর্মজীবনে অত্যন্ত অমায়িক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত চপলের এমন অকাল মৃত্যুতে তাঁর স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান গভীর সাগরে ভেসেছেন। ফরাজী বাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ও আত্মীয়-স্বজনরা মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তাঁদের বাড়িতে ভিড় করছেন।
সেনাবাহিনী ও আন্তর্জাতিক মিশন সূত্রে জানা গেছে, উগান্ডা থেকে প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও বীর সেনা কর্মকর্তার মরদেহ বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

















