পাইকারিতে বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব

বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রাখতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। মঙ্গলবার (৫ মে) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) এই প্রস্তাব জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ।
পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, দাম বাড়লে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে পাইকারিতে প্রতি ইউনিটের মূল্য ৭ টাকা ৪ পয়সা। তবে ঈদের ছুটির কারণে আগামী এক মাসের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বিইআরসি।
পিডিবির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ফলে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য আর্থিক ঘাটতি ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। আইএমএফ-এর ভর্তুকি কমানোর সুপারিশও এই মূল্য সমন্বয়ের অন্যতম কারণ।
পাইকারি দাম বাড়লে খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি হবে। তবে পিডিবি তাদের প্রস্তাবে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী বা ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের দাম না বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, আবাসিক ক্ষেত্রে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। বাণিজ্যিক ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন উচ্চতর ট্যারিফের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, পিডিবির প্রস্তাবটি এখন কারিগরি কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর আইন অনুযায়ী গণশুনানির মাধ্যমে সব পক্ষের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

















