দামি ওই বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত: প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’-এর সেই বালিশ জাদুঘরে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) তার কাছে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থার ৩৮টি অডিট রিপোর্ট উপস্থাপনের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এদিন বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট হস্তান্তর করেন। প্রতিবেদনগুলোতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ‘গ্রিন সিটি’ আবাসিক প্রকল্পের আসবাবপত্র কেনাকাটায় হওয়া ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র ফুটে ওঠে।
প্রতিবেদনে একটি বালিশের অবিশ্বাস্য দাম ও তা ভবনে ওঠানোর খরচ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “এত দামি বালিশগুলোর অন্তত একটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাদুঘরে রাখা উচিত, যাতে মানুষ দেখতে পারে দুর্নীতির সীমা কোথায় গিয়ে ঠেকেছিল।”
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে রূপপুর প্রকল্পের কেনাকাটায় প্রতিটি বালিশের দাম ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং প্রতিটি বালিশ নিচ থেকে ওপরে ওঠানোর খরচ ৭৬০ টাকা দেখানো হয়েছিল। এই ঘটনাটি তখন দেশজুড়ে ‘বালিশ কাণ্ড’ হিসেবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এছাড়া কমফোর্টার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয়েও অস্বাভাবিক ব্যয় দেখিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পায় অডিট বিভাগ।
অডিট রিপোর্ট হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থ সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রী অডিট রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

















