টানা বৃষ্টিতে হাজার হাজার বিঘা ধান পানির নিচে

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে জামালপুর, রংপুর ও সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ বোরো ধানখেত। কোথাও খাল দখল ও ভরাট হওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় আধা-পাকা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। কষ্টের ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার চাষি।
শুক্রবার (১ মে) সকালে জামালপুর সদরের রানাগাছা ইউনিয়নের শিমলনগর দিঘলবাইদ বিলে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। বিলের প্রায় দুই হাজার বিঘা জমির কাঁচা-পাকা বোরো ধান এখন পানির নিচে। কৃষকদের অভিযোগ, বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ ‘কানাউলা খাল’ ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়ায় পানি সরতে পারছে না।
চাষিরা জানান, শুরুতে জ্বালানি তেলের সংকটে সেচ দিতে সমস্যা হয়েছিল, আর এখন কাটার সময় বৃষ্টির পানিতে সব তলিয়ে গেল। জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, লোকসান কমাতে বিলের ৮০ শতাংশ ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের ধারাকোল বিলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কয়েকশ একর ধান তলিয়ে গেছে। ধারাকোল, আলমপুর খয়েরউল্লাহ ও খেরুয়া আলমপুর গ্রামের প্রায় ১২০০ কৃষকের জমি এখন পানির নিচে। অনেকে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু মুহূর্তের বৃষ্টিতে পাকা ধান এখন পানির তলায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এখন সরকারি সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছেন।
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের হাওর এলাকাগুলোতে এখন চলছে বেঁচে থাকার লড়াই। চারপাশে থৈ থৈ পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে আধা-পাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন কৃষক অজিত সিংহ ও তার সঙ্গীরা। কেউ কেউ নৌকা করে পচে যাওয়া ধান সংগ্রহ করে রাস্তার পাশে শুকানোর চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ঋণ করে ফসল বুনেছিলেন তারা। ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করবেন আর সারা বছর কী খেয়ে বাঁচবেন—সেই দুশ্চিন্তায় তাদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশার ছাপ। মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজয় ঘোষ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে এবং হাওরের বাঁধ ও কালভার্ট রক্ষায় প্রশাসন সজাগ রয়েছে।
২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার ক্ষত শুকানোর আগেই আবারও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর জলাবদ্ধতায় দিশেহারা হয়ে পড়ল দেশের অন্নদাতারা।

















