চাঁদে হিউম্যানয়েড রোবট পাঠাচ্ছে চীন

চন্দ্র অভিযানকে কেন্দ্র করে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (AI) নতুন এক হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে চীন। হংকংয়ের বিজ্ঞানীদের তৈরি এই রোবটটি চাঁদের দুর্গম দক্ষিণ মেরুতে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বহন ও স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনা করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানব মিশন পাঠানোর প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই রোবট তৈরি করা হয়েছে।
হংকং ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (HKUST) নকশা করা এই রোবটটির ওজন প্রায় ১০০ কেজি। এর গঠন বেশ বৈচিত্র্যময়—উপরের অংশ মানুষের মতো দুটি হাত সংবলিত এবং নিচের অংশে চলাচলের জন্য রয়েছে চার চাকার মডিউল। রোবটটি মূলত সৌরশক্তিতে চলবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির অধ্যাপক গাও ইয়াং জানান, এতে থাকা উন্নত এআই প্রযুক্তি যেকোনো বস্তু শনাক্ত করতে এবং সেটির গতিবিধি অনুসরণ করতে সক্ষম। এমনকি কাজ শুরুর আগেই রোবটটি নিজে থেকে পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। এটি ২০২৯ সালের ‘চাং-ই-৮’ অভিযানের অংশ হিসেবে চাঁদে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদের পৃষ্ঠে নভোচারী নামানো। অন্যদিকে, নাসা তাদের ‘আর্টেমিস ফোর’ অভিযানের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করলেও কারিগরি জটিলতায় সময়সূচি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেস এক্স-এর ‘স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম’ এবং মহাকাশে জ্বালানি ভরার জটিল প্রযুক্তির সমাধান দ্রুত না হলে যুক্তরাষ্ট্র এই দৌড়ে চীনের পেছনে পড়ে যেতে পারে। নাসার সাবেক প্রশাসক জিম ব্রাইডেনস্টাইনও এমন আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।
অধ্যাপক গাও ইয়াং বলেন, “চাঁদে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত হবে। নভোচারীরা পৌঁছানোর আগেই এই রোবটগুলো চাঁদে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম স্থাপন করে ভিত্তি মজবুত করবে।”

















