কেন মুখ থুবড়ে পড়ছে শহীদ জিয়ার স্বপ্নের এই খনি?

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যে খনির স্বপ্ন দেখা শুরু হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া যার উদ্বোধন করেছিলেন, সেই মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) এখন ধ্বংসের কিনারে। দেশের একমাত্র ভূগর্ভস্থ পাথর খনিটি এখন লোকসানের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। খনি ইয়ার্ডে অবিক্রীত ১৫ লাখ টন পাথরের স্তূপ আর ভুল নীতিমালার মারপ্যাঁচে যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে এর উৎপাদন।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত এই খনিটি ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে টানা পাঁচ বছর লাভের মুখ দেখলেও গত দুই বছরে ৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে। চলতি অর্থবছরেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং খনি পরিচালনায় ব্যবহৃত বিস্ফোরক আমদানিতে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপই এই ধসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঠিক বিপণন পরিকল্পনা ও সরকারি সমন্বয়ের অভাবে খনিটি আজ এই অবস্থায়। খনি কর্তৃপক্ষ জানায়:
ডলার সংকট: চুক্তির সময় ডলারের হার ৮৪ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা ১২৩ টাকায় পৌঁছেছে। বিদেশি ঠিকাদারের বিল পরিশোধে অতিরিক্ত ৪৫ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
বিস্ফোরকের উচ্চমূল্য: পাথর ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় বিস্ফোরক আমদানিতে আগে কোনো শুল্ক না থাকলেও বর্তমানে ৩৭ শতাংশ সিটিভ্যাট দিতে হচ্ছে।
আমদানি পাথরের দাপট: পাথর আমদানিতে বেইজ ভ্যালু কম ধরায় ভারতীয় পাথর কম দামে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে, ফলে মধ্যপাড়ার পাথর বাজার হারাচ্ছে।
বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে প্রায় ১৫ লাখ টন পাথর অবিক্রীত পড়ে আছে, যার মধ্যে রেলপথে ব্যবহৃত ‘ব্লাস্ট’ ও নদী শাসনে ব্যবহৃত ‘বোল্ডার’ পাথরের পরিমাণই ১৩ লাখ টনের বেশি। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, বিগত সরকারের সময়ে রেলওয়ের মেগা প্রকল্পগুলোতে দেশীয় এই পাথর ব্যবহার না করে ভারত থেকে পাথর আমদানি করা হয়েছে। ফলে দেশের সম্পদ দেশেই অবিক্রীত রয়ে গেছে।
এমজিএমসিএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী ডি. এম. জোবায়েদ হোসেন বলেন, “খনি সচল রাখতে বিস্ফোরক আমদানিতে ট্যাক্স ছাড় এবং আমদানিকৃত পাথরের শুল্ক বাড়ানো জরুরি। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বর্তমানে আমরা খরচের চেয়েও ৫০০ টাকা কম দামে পাথর বিক্রি করছি।”
যদি দ্রুত এই মজুত পাথর বিক্রি না হয়, তবে স্থানাভাবে খনির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কাজ হারাবেন প্রায় ৮০০ খনি শ্রমিক। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


