হাসিনার মামলায় ১২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন দাবি, আইনি প্যাঁচে পাটোয়ারী বাবু

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের দায়ে এমএইচ পাটোয়ারী বাবু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল স্বপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেন।
আদালত শুধু বাবুর বিরুদ্ধে পরোয়ানাই জারি করেননি, বরং সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত পোস্টে যারা লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিন দিন আগে এমএইচ পাটোয়ারী বাবু তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাজানো মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিনিময়ে বিভিন্ন দেশ ও গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কথিত লেনদেনের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ ও হার্ডড্রাইভ সরিয়ে ফেলে প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম পালিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারো কোর্ট’ হিসেবেও সেখানে আখ্যা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার আদালত অবমাননার বিষয়টি নজরে এলে ট্রাইব্যুনাল জানান, এ ধরনের পোস্ট বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা। সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। আদালত এই পোস্টটিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশ পাওয়ার পরপরই মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহার নেতৃত্বে একটি দল বাবুর সন্ধানে তার সম্ভাব্য অবস্থানে হানা দেয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি আগেই আত্মগোপন করেন।
প্রসিকিউটর তানভীর জোহা গণমাধ্যমকে জানান, “আমরা আদালতের নির্দেশে রাতেই অভিযান চালিয়েছি। তবে অভিযুক্ত বাবুকে পাওয়া যায়নি। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার বিভাগ নিয়ে মিথ্যাচার করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
ফেসবুকের ওই বিতর্কিত পোস্টটিতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬,৭০০ লাইক, ১,৩০০ মন্তব্য এবং ১,৯০০টি শেয়ার হয়েছে। আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, যারা এই মিথ্যা তথ্য ছড়াতে সহায়তা করেছেন বা সমর্থন দিয়েছেন, তাদেরও শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আদেশের ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবেদনশীল বিষয়ে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের জন্য একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হলো।
বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাবুর অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্টের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

















