হরমুজে নিরাপত্তা দিতে অনাগ্রহী মিত্রদের অকৃতজ্ঞ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার পাহারা দেওয়ার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর মার্কিন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে বেশ কয়েকটি মিত্র দেশ। বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিমা মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করে তাদের ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সরাসরি নাকচ করেছে ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য, জার্মানি, অষ্ট্রেলিয়া ও জাপান।
ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ালেও শেষ হওয়ার লক্ষণ নেই। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হওয়া হরমুজ প্রণালি ১৮ দিন ধরে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। এতে জ্বালানির দাম চড়ছে আর মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ঘাড়ে অর্থনৈতিক বোঝা চেপেছে। কিন্তু ইরানে হামলা শুরুর আগে এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। বরং ট্রাম্প দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে এসব মিত্র কঠোর সমালোচনা ও যুদ্ধংদেহী হুমকির শিকার হয়েছেন।
জার্মানি, স্পেন ও ইতালিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু মিত্র দেশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের ওই কৌশলগত জলপথ ফের উন্মুক্ত করতে সাহায্য করার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই তাদের। ইরান ড্রোন ও মাইন দিয়ে কার্যকরভাবে জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে।
সোমবার বার্লিনে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেছেন, ‘আইন অনুযায়ী জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ন্যাটোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন আমাদের নেই। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে কোনও পরামর্শ করেনি।’
এর আগে হোয়াইট হাউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেছিলেন, অনেকগুলো দেশ তাকে জানিয়েছিল তারা সাহায্য করতে প্রস্তুত। কিন্তু ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্রদের নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ এ বিষয়ে খুব উৎসাহী আবার অনেকে তা না। এমন অনেক দেশ আছে যাদের অনেক, অনেক বছর ধরে আমরা সাহায্য করে আসছি। আমরা তাদের বাইরের ভয়ঙ্কর উৎসগুলো থেকে রক্ষা করেছি কিন্তু তারা উৎসাহী নয়। আর উৎসাহের মাত্রাটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দেশগুলো বলছে এতে বরং না জড়ালেই ভালো। আমি জানি আমরাই তাদের রক্ষা করব, কিন্তু আমাদের যদি কখনো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে তাদের পাশে পাওয়া যাবে না। সাহায্য চেয়েছি মানে এটা নয় যে তাদের আমাদের প্রয়োজন; বরং দেখতে চেয়েছি তারা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়।’

















