শুধু গ্রামেই নয়, শহরেও হবে লোডশেডিং: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গ্রাম ও শহরের বৈষম্য কমাতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং কৃষি খাতে সেচ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করে প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
বিদ্যুৎ সমস্যার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “বর্তমান সমস্যা একদিনের নয়; এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার ফল। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি দেখানো হলেও বাস্তবের সঙ্গে সেটির ব্যাপক গরমিল রয়েছে।” সরকার শপথের মর্যাদা এবং সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি থাকছে। তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে।”
বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতেই শহরের বিদ্যুৎ ব্যবহারে এই সামান্য কাটছাঁট করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

















