লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলো ইরান

ইরানের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তি আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চি করেছেন।
ইসরায়েলের চালানো এক হামলায় ৬৭ বছর বয়সী লারিজানির মৃত্যু হয়েছে বলে মঙ্গলবার দাবি করেছিলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তার দাবির কয়েক ঘণ্টা পর ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ইরানের আধাসামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলাইমানিও অন্য এক হামলায় নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি লারিজানিকে সর্বশেষ গেল শুক্রবার রাজধানী তেহরানে আল-কুদস দিবসের কুচকাওয়াজে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। যুদ্ধের প্রথম দিনে খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে লারিজানিই ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ হারানো ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিতীয় নেতা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে লারিজানি ছিলেন ইরানি শাসন ব্যবস্থার এক শান্ত ও বিচক্ষণ প্রতিচ্ছবি। ১৮ শতকের জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টকে নিয়ে বই লেখা থেকে শুরু করে পশ্চিমাদের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির মধ্যস্থতা—সবখানেই ছিল তার পদচারণা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং আইআরজিসি কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শত্রুদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন লারিজানি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানি জাতির হৃদয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমরাও তাদের বুক জ্বালিয়ে দেব। এই ইহুদিবাদী অপরাধী আর নির্লজ্জ আমেরিকানদের আমরা এমন শিক্ষা দেব যে, তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য হবে।
ইরান যে চরম সংকটের মুখোমুখি, তা সামাল দিতে দেশটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লারিজানি। তিনি এর আগে মন্তব্য করেছিলেন- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের পাতা ফাঁদে পড়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরান পরিচালনার জন্য গঠিত তিন সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন লারিজানি।

















