রাশিয়ার তেল কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল

রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিবিসি বলছে, সব রুশ তেল কিনতে পারবে না তারা, কেবল এখন সমুদ্রে অবস্থানরত কোনো নৌযানে আছে এমন তেলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
১১ এপ্রিল পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের মধ্যে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টায়’ এ সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর তেলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল।
‘সীমিত পরিসরের এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা শুধুমাত্র জলপথে থাকা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং এতে রাশিয়া সরকার কোনো উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধাও পাবে না,’ বলেন বেসেন্ট।
“তেলের দামে এই সাময়িক বৃদ্ধি একটি ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্পমাত্রার ব্যাঘাত মাত্র, যা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশ ও অর্থনীতির জন্য বিরাট সুবিধা বয়ে আনবে,” বলেছেন বেসেন্ট।
এর আগে স্কাই নিউজকে তিনি বলেছিলেন, ‘মার্কিন সরকার সামরিকভাবে যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে পাহারা দেওয়া শুরু করবে। পাহারার বিষয়টি সবসময়ই আমাদের পরিকল্পনার ভেতর ছিল।’
সামনের দিনগুলোতে পাহারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি নিরাপদ পথ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, আমরা করবো।’
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মধ্যে উপসাগরে বিভিন্ন নৌযান ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট তেলের এক পঞ্চমাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।
বৃহস্পতিবার ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আরও তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হরমুজ বন্ধ রাখার ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও পতন দেখা গেছে।
যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারের অস্থিরতা কমাতে বিভিন্ন দেশকে নানান পদক্ষেপও নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় মজুদ থেকে রেকর্ড ৪০ কোটি ব্যারেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দেয় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা।
উপসাগরের দেশগুলোর তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। এসব দেশের সরকারও এরই মধ্যে সম্ভাব্য জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে।
ফিলিপিন্স যে অপরিশোধিত তেল কেনে তার ৯৫ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। জ্বালানি বাঁচাতে তারা সরকারি চাকরিজীবীদের সপ্তাহে চারদিন অফিস করতে বলেছে।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডের মতো অনেক দেশ পেট্রলের দামের সর্বোচ্চ সীমা ঠিক করে দিয়েছে।

















