রাবিতে ‘ওয়ান্স মোর’ ধ্বনিতে পুতুল নাচ, মুগ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

রাবি প্রতিনিধি পহেলা বৈশাখের উৎসবে মুখর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। বাঙালির ঐতিহ্য আর গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সব আয়োজনের মাঝে দর্শকদের নজর কেড়েছে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশিত গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘পুতুল নাচ’। মনোমুগ্ধকর এই পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা বারবার ‘ওয়ানস মোর’ ধ্বনিতে মেতে ওঠেন।
ঐতিহ্যের নবযাত্রা গত ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সমাজবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী মুগ্ধ বসাক শিশির ও আফরোজা শেখ এই পুতুল নাচ পরিবেশন করেন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলা থেকে বিলুপ্তপ্রায় এই শিল্পকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই তাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
দর্শকদের উচ্ছ্বাস মঞ্চে পুতুল নাচের মাধ্যমে গ্রামীণ জীবনের নানা গল্প ও সামাজিক বার্তা ফুটিয়ে তোলা হয়। বর্ণিল সাজ আর সুরের মূর্ছনায় পুতুলগুলো যখন জীবন্ত হয়ে ওঠে, তখন উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা করতালিতে মুখর হয়ে ওঠেন। পরিবেশনা শেষে দর্শকদের প্রবল আগ্রহে আবারও কিছু অংশ পরিবেশন করতে হয় তাদের।
পুতুল নাচে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী আফরোজা শেখ বলেন, “আমরা চেষ্টা করেছি লোকজ সংস্কৃতিকে শালীন ও আনন্দময়ভাবে তুলে ধরতে। শেষ মুহূর্তে মাত্র দুই মিনিটের পুতুল নাচটি দর্শকদের এতটাই ভালো লাগে যে সবাই ‘ওয়ানস মোর’ বলছিল। এই ভালোবাসা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করেছে।”
মুগ্ধ বসাক শিশির বলেন, “আধুনিকতার ঢেউয়ে লোকজ সংস্কৃতি বিলুপ্তির পথে। এমন সময়ে আমাদের এই ছোট্ট প্রচেষ্টা শিকড়কে নতুন করে চিনতে সাহায্য করবে।”
শিক্ষক ও আয়োজকদের অভিমত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজক সুমাইয়া ইয়াসমিন শোভা চৌধুরী জানান, শুধুমাত্র বিনোদন নয়, লোকসংস্কৃতির সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. এ কে আনোয়ার শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “পুতুল নাচ বাঙালির ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে নিজস্ব সংস্কৃতিকে এভাবে ফিরিয়ে এনেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আরিয়ান রনিসহ অনেকেই এই আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, পুতুল নাচের মতো শিল্পের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশাখী উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

















