মন্দিরের জমি দখলচেষ্টায় সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের দাবি বিএনপি-জামায়াতের

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিকেবিবি সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের জমি দখল করে জোরপূর্বক বাস কাউন্টার নির্মাণে বাধা দেওয়ায় মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত দাসের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফেরদাউস শিকদার ও তার বাহিনী। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসী ফেরদাউসকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মোরেলগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছে মন্দির কমিটি, স্থানীয় বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী।
বাধাল বাজার সংলগ্ন মন্দিরের পবিত্র জমি দখল করে ‘ইমা পরিবহন’-এর টিকিট কাউন্টার স্থাপনের পাঁয়তারা করছিল ফেরদাউস। মন্দির কমিটি এতে বাধা দিলে বৃহস্পতিবার রাতে বলভদ্রপুর বাজার এলাকায় সঞ্জিত দাসের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ৫-৬ জন সন্ত্রাসী। গুরুতর আহত সঞ্জিত দাস বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “ফেরদাউস একজন সন্ত্রাসী, সে জোর করে মন্দির দখল করতে চেয়েছিল। বাধা দেওয়ায় আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে।”
শুক্রবার সকালে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় সংহতি জানিয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল জব্বার মোল্লা বলেন, “ফেরদাউস এলাকায় একজন ত্রাস হিসেবে পরিচিত। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর হাত দেওয়ার দুঃসাহস সে কীভাবে পেল? আমরা এই সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
বনগ্রাম ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ডা. আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মন্দিরের জমি ধর্মীয় সম্পত্তি, এখানে দখলবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। সন্ত্রাসী যেই হোক, তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”
সভায় বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফেরদাউস ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মন্দির কমিটির সভাপতি উৎপল কুমার দাস প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, পাঁচটি গ্রামের মানুষের এই উপাসনালয় রক্ষায় তারা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

















