বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য টোল মওকুফ করলো ইরান

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে তেহরান। এখন থেকে ইরানের ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো টোল বা ট্রানজিট মাশুল দিতে হবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে জানান, নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রের জন্য এই বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। আপাতত এই তালিকায় রাশিয়ার নাম নিশ্চিত করা হলেও অন্যান্য দেশের নাম কৌশলগত কারণে গোপন রাখা হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, অনেক দেশ ও জাহাজমালিক এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের জন্য ইরানের সহায়তা চেয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে: “যাদের আমরা বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করি, তাদের জাহাজের নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।”
উল্লেখ্য যে, এর আগে সম্ভাব্য বন্ধু রাষ্ট্রের তালিকায় বাংলাদেশ, চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরাক-এর নাম আলোচনায় এসেছিল। তবে বর্তমান নীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কারা এই সুবিধা পাচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট করেনি তেহরান।
বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে ছাড় দিলেও অন্যদের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি। ইরানের সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই জানিয়েছেন, প্রথমবারের মতো এই প্রণালি ব্যবহারের জন্য ট্রানজিট ফি আদায় শুরু করেছে ইরান এবং সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই জলপথটি বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে যায়, যা একে ভূ-রাজনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য টোল মওকুফের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করবে।

















