ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনে টেলিগ্রাম, মিলছে না পেমেন্ট

রাশিয়ায় ভিপিএন (VPN) এবং মেসেজিং অ্যাপগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা ‘ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন’-এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পেমেন্ট সিস্টেমে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই কারিগরি সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপকে দায়ী করেছেন।
শুক্রবার রাশিয়ার পেমেন্ট সিস্টেমে হঠাৎ ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েন লাখ লাখ গ্রাহক। মস্কো মেট্রো স্টেশনে ডিজিটাল পেমেন্ট কাজ না করায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে যাত্রীদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ করে দেয়। অন্যদিকে, একটি আঞ্চলিক চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ দর্শকদের জানায়, ডিজিটাল মাধ্যমে টিকিট কেনা যাচ্ছে না, তাই কেবল নগদ টাকা দিলেই প্রবেশ করা যাবে। কেনাকাটা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের লেনদেনে এই স্থবিরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
টেলিগ্রামের বিলিয়নেয়ার প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ শনিবার এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া মূলত ভিপিএন পরিষেবাগুলো ব্লক করার চেষ্টা করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের পেমেন্ট সিস্টেমে এই বিভ্রাট ঘটিয়েছে। তিনি রুশ নাগরিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, “আমার রাশিয়ান ভাই ও বোনেরা, ডিজিটাল প্রতিরোধে আপনাদের স্বাগতম। এই অর্থহীন বিধিনিষেধগুলো এড়ানোর জন্য এখন পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ।”
রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম রুখতে ভিপিএন এবং মেসেজিং অ্যাপগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা জরুরি। তারা অভিযোগ করেছেন যে, টেলিগ্রামে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের অনুপ্রবেশের কারণে রুশ সেনাদের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা হিসেবে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাশিয়া সরকার তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় অ্যাপ ‘MAX’ ব্যবহারে জনগণকে বাধ্য করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এই অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক ‘সবারব্যাঙ্ক’ কারিগরি ত্রুটির কথা স্বীকার করলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে নীরব রয়েছে। অনেক রুশ সংবাদমাধ্যম এই বিভ্রাটের সঙ্গে ভিপিএন ব্লকিংয়ের সম্পর্কযুক্ত প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নিয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
রাশিয়ার এই কঠোর ‘ডিজিটাল ক্র্যাকডাউন’ শেষ পর্যন্ত জনজীবনকে কতটা স্বাভাবিক থাকতে দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সূত্র: রয়টার্স

















